AB Bank
  • ঢাকা
  • রবিবার, ১৮ মে, ২০২৫, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

কালাইয়ে ৮ কিমি দীর্ঘ জলাশয় ৪০ বছর ধরে দখলদারদের কবলে



কালাইয়ে ৮ কিমি দীর্ঘ জলাশয় ৪০ বছর ধরে দখলদারদের কবলে

জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলায় সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের অধীনে থাকা প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি পুরোনো উন্মুক্ত জলাশয় গত চার দশক ধরে স্থানীয় শতাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও কিছু সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দখলে চলে গেছে।

সরকারি তদারকির অভাব, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এবং প্রভাবশালী মহলের দাপটে এই দখল প্রক্রিয়া দিনদিন আরও বিস্তৃত হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন হারিয়ে যাচ্ছে সরকারি সম্পত্তি, তেমনি বিপর্যস্ত হচ্ছে পরিবেশ, কৃষি, মৎস্য খাত এবং সরকারি রাজস্ব ব্যবস্থা।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, জয়পুরহাট-বগুড়া মহাসড়কের উভয় পাশে বিস্তৃত দুটি প্রাকৃতিক জলাধার এক সময় কৃষিকাজ ও মৎস্য উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। একটির অবস্থান দক্ষিণ দিকে পাঁচশিরা বাজার থেকে পুনট বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ৪ কিমি এবং অন্যটি কালাই থানা এলাকার উত্তর দিক থেকে নিশ্চিন্তা বাজার পর্যন্ত আরও ৪ কিমি।

এই দুই জলাধারই একসময় খরা ও বন্যা মোকাবিলায় কৃষকদের জন্য ছিল নির্ভরতার উৎস। বর্তমানে জলাশয় দুটি কচুরিপানা, পৌরসভার বর্জ্য ও আবর্জনায় পরিপূর্ণ হয়ে প্রায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গিয়ে জলাশয় রূপ নিয়েছে ডোবা ও ভাগারে।

এই সুযোগে স্থানীয় প্রভাবশালীরা পরিকল্পিতভাবে মাটি ফেলে জলাশয়ের জায়গায় ঘরবাড়ি, দোকানপাট এমনকি যাতায়াতের রাস্তা নির্মাণও করেছেন। কয়েকটি স্থানে জলাশয়ের বুক চিরে বাড়ির সংযোগের রাস্তা পর্যন্ত বানানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এসব দখলের পেছনে যুক্ত রয়েছেন শতাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি, যার মধ্যে রয়েছেন খাইরুল আলম, মোজাফফর হোসেন, রঞ্জু মিয়া, শহিদুল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম, আবু কালাম, আব্দুল হান্নান, মাহমুদুল হাসান, আবুল কাসেম, ফজলুর রহমান, মোহাম্মদ হাসান, আসিফ হোসেন ও ছানোয়ার হোসেনসহ অনেকে। তারা প্রত্যেকে ৫ থেকে ৬ শতক পর্যন্ত জলাশয়ের জায়গা দখলে নিয়ে ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহার করছেন।

এছাড়াও, জলাশয়ের একাধিক অংশে সওজের অনুমতি ছাড়াই গড়ে উঠেছে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যেমন- ব্র্যাক অফিস, টিএন্ডটি, ফায়ার সার্ভিস এবং একটি আলুর হিমাগার। এসব স্থাপনাও জলাশয়ের জায়গা দখলে নিয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, জলাশয়ের দুই পাশে ইতোমধ্যে নির্মিত হয়েছে প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি পাকা ভবন, যার মধ্যে অন্তত ১১টি নতুন দোকানঘর নির্মাণাধীন। এসব দোকান ইট, বালি ও পাকা কংক্রিট দিয়ে টেকসই কাঠামোতে তৈরি করা হচ্ছে।

এলাকার বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন নতুন নতুন দোকান নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে, ফলে দখল এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

কৃষক ছানোয়ার হোসেন বলেন, জলাশয় দুটি ছিল কৃষকের পানি সেচের ভরসা। এখন দখলদাররা নিজের মতো ব্যবহার করছে। এতে আমাদের মতো সাধারণ কৃষক চরম ক্ষতিগ্রস্ত।

অপরদিকে, জলাশয় দখলকারী আব্দুল হান্নান দাবি করেন, এই জলাশয় ৪০ বছর ধরে পরিত্যক্ত ছিল। আমার লাগোয়া জমি রয়েছে, যাতায়াতের জন্য কিছু জায়গা মাটি দিয়ে ভরাট করেছি। এতে তো কারও ক্ষতি হয়নি।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তৌহিদা মোহতামিম বলেন, জলাশয় দুটিতে সরকারিভাবে মৎস্য চাষের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয় ছাড়া কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামিমা আক্তার জাহান বলেন, সরকারের কোটি টাকার সম্পদ এভাবে পড়ে থাকতে পারে না। সড়ক ও জনপদ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে এবং জলাশয় দুটিকে মৎস্য চাষের আওতায় আনার জন্য উদ্যোগও নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.মনিরুজ্জামান বলেন, আমরা স্বীকার করছি এ পর্যন্ত দখল উচ্ছেদের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুতই উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে জলাশয় পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
 

 

একুশে সংবাদ/জ.প্র/এ.জে

Link copied!