পবিত্র ঈদুল আজহার টানা ছুটিতে দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে বেড়েছে দর্শনার্থীদের আনাগোনা। বিশেষ করে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির জনপ্রিয় পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটকদের উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। তবে মৌলভীবাজারে অন্যান্য বছরের তুলনায় পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলক কম দেখা গেছে।
কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল
ঈদের চতুর্থ দিনে রোববার দেশের প্রধান সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে পর্যটকদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায়। ঈদের দিন পারিবারিক ব্যস্ততার কারণে উপস্থিতি কম থাকলেও দ্বিতীয় দিন বিকেল থেকে পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে থাকে।

সৈকতের লাবনী, সুগন্ধা, কলাতলী, দরিয়ানগরসহ বিভিন্ন পয়েন্টে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। কেউ সমুদ্রস্নান, কেউ ঘোড়ায় চড়া, আবার কেউ জেটস্কি ও বিচ বাইকের মতো বিনোদনমূলক কার্যক্রমে অংশ নেন। বিকেলে সূর্যাস্ত উপভোগ করতে সৈকতে জড়ো হন হাজারো দর্শনার্থী।

পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা পুলিশ ও লাইফগার্ড সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। সমুদ্রে নিরাপদ এলাকায় গোসলের বিষয়ে নিয়মিত সতর্কতামূলক প্রচারণাও চালানো হচ্ছে।
চট্টগ্রামের পর্যটন স্পটগুলোতে প্রাণচাঞ্চল্য
ঈদের ছুটিতে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানেও ছিল পর্যটকদের সরব উপস্থিতি। পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত, নেভাল একাডেমি, পারকি সৈকত এবং সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালী সৈকতে সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যায়।
এ ছাড়া ভাটিয়ারী সানসেট পয়েন্টে সূর্যাস্ত দেখতে বিভিন্ন বয়সী মানুষের সমাগম ঘটে। মিরসরাইয়ের মহামায়া ইকোপার্কেও প্রকৃতিপ্রেমীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কায়াকিং ও নৌভ্রমণ উপভোগ করেন অনেক পর্যটক।

সীতাকুণ্ডের খৈয়াছড়া ঝরনা ও বাঁশবাড়িয়া সমুদ্রসৈকতেও পর্যটকদের ভিড় ছিল উল্লেখযোগ্য। তবে বাঁশবাড়িয়া সৈকতে যাওয়ার পথে যানজটের কারণে কিছুটা দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে ভ্রমণকারীদের।
খাগড়াছড়িতে দর্শনার্থীদের ভিড়
ঈদের ছুটির শেষ দিনে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রেও ছিল দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্র, রিসাং ঝরনা এবং জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্কে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসেন স্থানীয় ও দূরদূরান্তের পর্যটকরা।

বিশেষ করে সাজেক ভ্যালি ভ্রমণ শেষে অনেক পর্যটক খাগড়াছড়ির অন্যান্য দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখায় জেলার পর্যটন স্পটগুলোতে বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যায়।
মৌলভীবাজারে পর্যটক তুলনামূলক কম
অন্যদিকে, চায়ের দেশ হিসেবে পরিচিত মৌলভীবাজারে এবারের ঈদে প্রত্যাশিত সংখ্যক পর্যটক আসেননি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
পর্যটন ব্যবসায়ীদের মতে, শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুরবস্থা, স্থানীয় সড়কের খারাপ অবস্থা, ট্রেনের টিকিট সংকট এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পর্যটকের সংখ্যা কমেছে।

মৌলভীবাজার পর্যটন সেবা সংস্থার সভাপতি সেলিম আহমেদ বলেন, ঈদের পর থেকে কিছু বুকিং বাড়লেও তা প্রত্যাশার তুলনায় কম। পর্যটক আকর্ষণে বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্টে বিশেষ ছাড় দেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে ঈদের ছুটিতে দেশের অধিকাংশ পর্যটনকেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করলেও মৌলভীবাজারে পর্যটকের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলকভাবে সীমিত।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

