কক্সবাজারের পাটুয়ারটেক সমুদ্র সৈকত (Patuartek Sea Beach) হতে পারে আপনার জন্য একদম আলাদা অভিজ্ঞতা। কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ ধরে গেলে ইনানী সৈকত পার হয়ে উখিয়া উপজেলার যে অংশে এই সৈকতের দেখা মেলে সেখানে প্রকৃতি যেন নিজের সমস্ত বৈচিত্র্য একসাথে মেলে ধরেছে।
পাটুয়ারটেকের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো একই স্থানে পাহাড়, প্রবালপাথর আর বিশাল নীল সমুদ্রের অবস্থান। একপাশে সবুজ পাহাড় অন্যপাশে পাথুরে গাথা উত্তাল সাগর এই দৃশ্য বাংলাদেশে খুব বেশি জায়গায় একসাথে দেখা যায় না।
ভাটার সময় সৈকতের পাথরগুলো জেগে ওঠে, আর সেই পাথরের বুকে আছড়ে পড়া ঢেউ তৈরি করে এক অনির্বচনীয় সৌন্দর্য, যা ছবিতে যতটা ধরা পড়ে, বাস্তবে তার চেয়েও বেশি মুগ্ধ করে।
মেরিন ড্রাইভ ধরে পাটুয়ারটেকের দিকে যাওয়ার সময় চোখে পড়বে রঙিন সাম্পান, মাছ ধরে ফেরা জেলেদের ব্যস্ততা আর সৈকতের ধারে মাছ কেনাবেচার দৃশ্য। লাল কাঁকড়ার বিচরণ, দূরে দুলতে থাকা মাছধরা নৌকা আর বাতাসের সঙ্গে ভেসে আসা সাগরের শব্দ, সব মিলিয়ে এখানে এসে মন যেন আপনাতেই ধীর হয়ে যায়। বর্ষাকালে পাহাড়ি অরণ্যের সবুজ রূপ এই সৈকতকে আরও নাটকীয় করে তোলে, আর রাতে নির্জন সৈকতে ঢেউয়ের আলোছায়ার খেলা এক ভিন্ন অনুভূতির জন্ম দেয়।
কিভাবে যাবেন
পাটুয়ারটেক সমুদ্র সৈকত যেতে হলে প্রথমে আপনাকে কক্সবাজারে পৌঁছাতে হবে। কক্সবাজার ভ্রমণ এতটাই জনপ্রিয় যে বাংলাদেশের প্রায় সব জেলা থেকেই বাসে অথবা ট্রেনে কক্সবাজার যাবার সুযোগ রয়েছে। আপনার সুবিধামতো উপায়ে কক্সবাজার যাবার পরিকল্পনা করে নিন।
কক্সবাজার শহরের সুগন্ধা পয়েন্ট বা ডলফিন মোড় থেকে পাটুয়ারটেক যাওয়ার সিএনজি, অটোরিক্সা ও চান্দের গারি পাওয়া যায়। সিএনজিতে করে গেলে রিজার্ভ ভাড়া লাগবে ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকা আর চান্দের গারি রিজার্ভ নিলে ভাড়া লাগবে ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকা।
কোথায় থাকবেন
রাতে থাকার জন্য কক্সবাজার শহরে ফিরে আসুন। এখানে আপনার বাজেট ও পছন্দমত অনেক হোটেল পেয়ে যাবেন। তবে হোটেল বুকিং করার আগে দরদাম করে নিন।
কোথায় খাবেন
পাটুয়ারটেক সমুদ্র সৈকত এর কাছেই কোরাল স্টেশন রেস্টুরেন্ট, সি মাউন্ট বিচ ক্যাফে ও রূপচাঁদা রেস্টুরেন্ট এ আপনার পছন্দমত খেতে পারেন। আবার চাইলে কক্সবাজার শহরে ফিরে গিয়েও আপনার পছন্দমত রেস্টুরেন্টে খেতে পারেন।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

