ভুয়া তথ্য ও জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে কানাডার ভিসার জন্য আবেদন করার ঘটনায় প্রায় ৬০০ বাংলাদেশির পাসপোর্ট ফেরত পাঠিয়েছে কানাডা কর্তৃপক্ষ। সিঙ্গাপুরে অবস্থিত কানাডিয়ান হাইকমিশন এসব পাসপোর্ট প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর কাছে পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করেন লুৎফে সিদ্দিকী। সংবাদ সম্মেলনটি সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে আয়োজন করা হয়।
লুৎফে সিদ্দিকী জানান, ফেরত আসা প্রতিটি পাসপোর্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কানাডার ভিসা আবেদনপত্র যাচাই করে দেখা গেছে—সবগুলোতেই ভুয়া তথ্য, জাল সনদ ও মিথ্যা ডকুমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে কানাডার ভিসার আবেদন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পাসপোর্ট সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়।
তিনি বলেন, একটি সংঘবদ্ধ দালালচক্র দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে সিঙ্গাপুরের কানাডিয়ান হাইকমিশনে বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট জমা দিয়ে আসছে। ধরা পড়ার আশঙ্কা দেখা দিলে তারা আর পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে যায় না।
বিশেষ দূত আরও জানান, পরবর্তীতে এসব পাসপোর্ট হারিয়ে গেছে—এই মর্মে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে নতুন পাসপোর্ট সংগ্রহ করা হয় এবং একই কৌশলে পুনরায় ভুয়া ভিসা আবেদনের চেষ্টা চালানো হয়।
এ ঘটনায় তদন্তের দায়িত্ব অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) দেওয়া হয়েছে বলে জানান লুৎফে সিদ্দিকী। তিনি বলেন, কারা এই ৬০০ পাসপোর্টের মালিক এবং কোন চক্রের মাধ্যমে তারা এ ধরনের অনিয়মে যুক্ত হয়েছেন—সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে কয়েকজন দালালের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক পরিসরে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে, বাংলাদেশ অবৈধ অভিবাসন রোধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয় না। বরং বিদেশে যত বেশি এবং যত দ্রুত সম্ভব মানুষ পাঠানোই যেন মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে অভিবাসীদের কল্যাণ উপেক্ষিত থাকে।
লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, এই পরিস্থিতিতে এখন বাংলাদেশের জন্য জরুরি হলো—আন্তর্জাতিক মহলের কাছে প্রমাণ করা যে, অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বৈধ ও দক্ষ অভিবাসন নিয়ে কাজ করা হলে এবং ইতালিসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কার্যকর সমঝোতা বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

