AB Bank
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

সংস্কারের অভাবে অকার্যকর ৫ কোটির স্লুইজ গেট


Ekushey Sangbad
জেলা প্রতিনিধি,কুড়িগ্রাম
০৩:৪১ পিএম, ৩ অক্টোবর, ২০২২
সংস্কারের অভাবে অকার্যকর ৫ কোটির স্লুইজ গেট

কুড়িগ্রামের উলিপুরে ২৩ বছর আগে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্লুইজ গেটটি বর্তমানে বছরের নিদির্ষ্ট সময়ে দুই পাড়ের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে সামান্য কাজে আসলেও অধিকাংশ সময়ই অকার্যকর অবস্থায় পড়ে থাকছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় ধীরে ধীরে অকার্যকর হয়ে পড়েছে ২৪টি পানি প্রবাহের গেট।

 

স্থানীয়রা বলছেন, মাত্র ৮টি গেট কোন রকমে সচল আছে। ভরা বন্যায় মরিচা ধরা কপাটগুলো কোন রকম কাজ করায় পানির প্রবাহ চলমান না থাকায় বছরের পর বছর জলাবদ্ধতায় নদীর দুই পাড়ের মানুষের আবাদি জমি অনাবাদি হয়ে পড়ছে, যার ফলে উৎপাদনও ব্যহত হচ্ছে।

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, ৯০ দশকে ভয়াবহ বন্যায় থেতরাই বাজারের কাছে নির্মিত স্লুইজ গেটটি তিস্তা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এরপর তৎকালীন পাউবোর কর্মকর্তারা অপরিকল্পিতভাবে বুড়ি তিস্তা নদীর উৎসমুখে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করে বুড়ি তিস্তা নদীসহ সেচ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়। আরেক পাশে থেতরাই ইউনিয়নের গোড়াই পিয়ার এলাকায় নতুন একটি স্লুইজ গেট নির্মাণ করে। ১৯৯৯ সালে পাউবোর প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্লুইজ গেটটির ২৪টি গেটের মধ্যে ১৬টি বিকল হয়ে যায়।

 

ইতোমধ্যে গেটগুলোর পেনিয়াম, সেফ, ছোট-বড় পেনিয়াম কাভার ও নাট বোল্ট চুরি হয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও সংস্কারের অভাবে স্লুইজ গেটটির দুই পাড়ের শত শত হেক্টর আবাদি জমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে।

 

এদিকে স্লুইজ গেটের উৎসমুখে দীর্ঘদিন থেকে পলি ও বালুমাটি জমা পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়ায় কোন দিক থেকেই পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। অপরদিকে দক্ষিণ অংশের তিস্তা নদীর দলদলিয়া ইউনিয়নের দেবত্তর থেকে রাজারহাট উপজেলার নাজিমখাঁন, বোতলা, কৈলাশ, চাকিরপাশা ও চান্দামারি পর্যন্ত প্রায় ১৭ কি.মি খনন না করায় এ অঞ্চলের আবাদী জমিগুলো অনাবাদী হয়ে পড়েছে যার ফলে বছরের পর বছর উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে।

 

পাউবো তিস্তা নদীর উত্তর দক্ষিণের পুর্ব প্রান্তে থেতরাই ইউনিয়নের অর্জুনগ্রামে যে বাঁধ নির্মাণ করেছে তাতে স্লুইজ গেটটি কোন ধরনের কাজে আসছে না এবং তিস্তা নদীর সাথে সংযুক্ত বুড়ি তিস্তা নদীর প্রায় ৩২ কিলোমিটার মৃত্যুর পথে পতিত হয়েছে। এই সুযোগে বুড়ি তিস্তার দুই পাড়ে থাকা কতিপয় দখলদার নদীটি দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠলে উলিপুর প্রেসক্লাব ও রেল-নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণ-কিমিটি বুড়ি তিস্তা নদীকে বাঁচানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রতিকী আন্দোলন শুরু করে।

 

আন্দোলনের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে পড়লে বাংলাদেশ সরকার ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নদীটি খননের কাজ করলেও কর্তপক্ষের নজরদারী না থাকায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে উপরের পাড় ভেঙ্গে তলা ভরাট হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবী বুড়ি তিস্তার উৎসমুখে দ্রুতই একটি স্লুইজ গেট নির্মাণ না করলে বুড়ি তিস্তা নদীটি পূর্বের ন্যায় দখলদারদের দখলে চলে যাবে। এই নদীটিতে কতিপয় রেকর্ডীয় জমির মালিক প্রায় ৮ কি.মি সংস্কার কাজে বাধা প্রদান করে এবং জমির মালিকানা দাবি করে রাষ্ট্রপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন (মামলাটি চলমান)।

 

গোড়াই পিয়ার ও দেবত্তর গ্রামের সুলতান, সাহাবল, রহিম, সুজা জানান, স্লুইজ গেটটি একসময় মানুষের উপকারে আসলেও ২০-২২ বছর থেকে সংস্কার না করায় পানির প্রবাহ বন্ধের উপক্রম হয়েছে এবং শত শত হেক্টর আবাদী জমিতে জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুতই সংস্কারের দাবি জানায়।

 

স্লুইজ গেটটি দেখ-বহালের দায়িত্বে থাকা আব্দুল বাতেন ও তার সন্তান ওমর ফারুক জানান, ২৪টি গেটের ১৬টি বন্ধ হয়ে গেছে কোন রকমে চালু আছে ৮টি গেট। স্লুইজ গেটের তলায় বালু, কঙ্কর পড়ে কপাটগুলো বন্ধ হয়ে গেছে।

 

তারা আরও জানান, কপাটগুলোর নাট বোল্ট ও তলায় দ্রুত সংস্কার না করলে গেটের দুই পাড়ের মানুষের ভোগান্তির শেষ থাকবে না।

 

এই বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলার পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, স্লুইজ গেটটি সংস্কারের জন্য বরাদ্দ চেয়ে চাহিদা পাঠানো হয়েছে এবং দলদলিয়া ইউনিয়নের দেবত্তর থেকে রাজারহাট ইউনিয়নের নাজিমখান পর্যন্ত খনন করার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

 

একুশে সংবাদ/কা.স্বা/এসএপি

Link copied!