AB Bank
  • ঢাকা
  • রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

সফরের পথে নামাজ: কিবলামুখী হওয়া কতটা জরুরি?


Ekushey Sangbad
ধর্ম ডেস্ক
০৮:৪২ পিএম, ১৯ জুন, ২০২৬

সফরের পথে নামাজ: কিবলামুখী হওয়া কতটা জরুরি?

নামাজ মুমিনের জীবনের অন্যতম প্রধান ইবাদত এবং ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ। এটি এমন একটি ফরজ দায়িত্ব, যা কোনো অবস্থাতেই পুরোপুরি রহিত হয় না। সুস্থতা কিংবা অসুস্থতা, নিরাপত্তা কিংবা সংকট, এমনকি সফরের সময়ও একজন মুসলমানের ওপর নামাজ আদায়ের দায়িত্ব বহাল থাকে।

তবে ইসলাম মানুষের সামর্থ্য ও বাস্তব পরিস্থিতির প্রতি অত্যন্ত সহানুভূতিশীল। তাই বিভিন্ন পরিস্থিতিতে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহজতাও প্রদান করা হয়েছে।

বর্তমান সময়ে মানুষ বাস, ট্রেন, লঞ্চ কিংবা উড়োজাহাজে দীর্ঘ সময় ভ্রমণ করে থাকে। অনেক সময় সফরের মাঝেই নামাজের সময় হয়ে যায়, অথচ যানবাহন থেকে নেমে কিবলামুখী হয়ে স্বাভাবিক নিয়মে নামাজ আদায়ের সুযোগ থাকে না। এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে— চলন্ত যানবাহনে নামাজ আদায় করা কি বৈধ? কিবলামুখী হওয়া কি তখনও বাধ্যতামূলক? এ বিষয়ে ইসলামের বিধান কী?

এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে ইসলামী শরিয়তের নির্দেশনা ও আলেমদের ব্যাখ্যার দিকে দৃষ্টি দিতে হবে।

নামাজ কখনো মওকুফ নয়

আল্লাহ তাআলা বলেন—

أَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ

‘তোমরা নামাজ প্রতিষ্ঠা করো এবং যাকাত আদায় করো।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ৪৩)

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন—

إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا

‘নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের ওপর নির্ধারিত সময়ে ফরজ করা হয়েছে।’ (সুরা আন-নিসা: আয়াত ১০৩)

এ আয়াতগুলো প্রমাণ করে যে, নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করা মুমিনের দায়িত্ব। তাই সফরে থাকলেও যথাসম্ভব সময়মতো নামাজ আদায় করতে হবে।

সফরে নামাজ আদায়ের নীতিমালা

ইসলাম সহজতার ধর্ম। তাই কোনো ব্যক্তি যদি এমন পরিস্থিতিতে পড়েন যেখানে স্বাভাবিক নিয়মে নামাজ আদায় করা সম্ভব নয়, তাহলে তিনি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী নামাজ আদায় করবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন—

فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ

‘তোমরা সাধ্যানুযায়ী আল্লাহকে ভয় করো।’ (সুরা আত-তাগাবুন: আয়াত ১৬)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

إِذَا أَمَرْتُكُمْ بِأَمْرٍ فَأْتُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ

‘আমি তোমাদের কোনো কাজের নির্দেশ দিলে তোমরা তা সাধ্যানুযায়ী পালন কর।’ (বুখারি ৭২৮৮, মুসলিম ১৩৩৭)

বাস ও অন্যান্য স্থলযানে নামাজের বিধান

বাসে সাধারণত দাঁড়িয়ে পূর্ণ রুকু-সিজদাসহ নামাজ আদায় করা কঠিন হয়। তাই—

গন্তব্যে পৌঁছে ওয়াক্তের মধ্যে নামাজ আদায় করা সম্ভব হলে অপেক্ষা করা যাবে।

ওয়াক্ত শেষ হওয়ার আশঙ্কা থাকলে সুযোগমতো গাড়ি থামিয়ে নেমে নামাজ আদায় করা উচিত।

যদি নামার সুযোগ না থাকে অথবা নামলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়, তাহলে সিটে বসেই ইশারা বা সামর্থ্য অনুযায়ী নামাজ আদায় করা যাবে।

পরবর্তীতে সতর্কতামূলকভাবে নামাজ পুনরায় আদায় করা উত্তম।

ট্রেনে নামাজ আদায়

ট্রেনে পর্যাপ্ত জায়গা থাকলে এবং দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করা সম্ভব হলে যথারীতি নামাজ পড়তে হবে।

ট্রেন স্টেশনে থেমে থাকলে প্ল্যাটফর্মে নামাজের সুযোগ থাকুক বা না থাকুক, ট্রেনের ভেতর নামাজ আদায় করা জায়েজ। চলন্ত ট্রেনে নামাজ পড়াও ফিকহবিদদের মতে বৈধ।


আরও পড়ুন
মসজিদের সামনে কবরস্থান থাকলে সেখানে নামাজ পড়া যাবে কি?
মসজিদের সামনে কবরস্থান থাকলে সেখানে নামাজ পড়া যাবে কি?
লঞ্চ ও নৌযানে নামাজ

যদি লঞ্চ নোঙর করা থাকে এবং স্বাভাবিকভাবে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া সম্ভব হয়, তাহলে দাঁড়িয়েই নামাজ আদায় করতে হবে।

কিন্তু—

সাগর উত্তাল হওয়ার কারণে দাঁড়ানো সম্ভব না হলে বসে নামাজ পড়া যাবে।
চলন্ত নৌযানে ভারসাম্য রক্ষা কঠিন হলে বসে নামাজ আদায় করা বৈধ।
মাথা ঘোরা বা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও বসে নামাজ পড়ার অনুমতি রয়েছে।
উড়োজাহাজে নামাজের বিধান

উড়োজাহাজেও নামাজ আদায় করা যাবে। ইসলামী শরিয়তে আকাশে অবস্থানকারী ব্যক্তির জন্যও নামাজ ফরজ।

কাবা শরিফের সরাসরি দেয়ালকে সামনে রাখা আবশ্যক নয়; বরং কাবার দিক বরাবর ঊর্ধ্বমুখী পুরো আকাশসীমাই কিবলার অন্তর্ভুক্ত। তাই বিমানযাত্রীগণ তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী কিবলা নির্ধারণ করে নামাজ আদায় করবেন।

যানবাহনে কিবলামুখী হওয়া কি বাধ্যতামূলক?

সাধারণ অবস্থায় ফরজ নামাজের জন্য কিবলামুখী হওয়া আবশ্যক। আল্লাহ তাআলা বলেন—

فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ

‘অতএব তুমি তোমার মুখমণ্ডল মসজিদুল হারামের দিকে ফিরিয়ে নাও।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৪৪)

কিবলা সম্পর্কে সফরের বিশেষ বিধান

যানবাহনে কিবলামুখী হওয়ার সুযোগ থাকলে নামাজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কিবলামুখী থাকা জরুরি।
যানবাহন দিক পরিবর্তন করলে মুসল্লিও সামর্থ্য অনুযায়ী কিবলার দিকে ফিরে যাবেন।
যদি কিবলামুখী হওয়ার কোনো সুযোগ না থাকে এবং যানবাহন থেকে নামাও সম্ভব না হয়, তাহলে যেদিকে সম্ভব সেদিকেই নামাজ আদায় করা যাবে।
রুকু ও সিজদা যথাযথভাবে করা গেলে পরে নামাজ পুনরায় পড়ার প্রয়োজন নেই।
ইশারার মাধ্যমে নামাজ আদায় করলে সতর্কতামূলকভাবে পরে পুনরায় আদায় করা উত্তম।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আমল

হজরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত—

كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يُصَلِّي عَلَى رَاحِلَتِهِ حَيْثُمَا تَوَجَّهَتْ بِهِ

‘নবী (সা.) তাঁর বাহনের ওপর (নফল) নামাজ আদায় করতেন, বাহন যেদিকেই চলুক না কেন।’ (বুখারি ১০৯৬, মুসলিম ৭০০)

এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, প্রয়োজন ও সফরের পরিস্থিতি বিবেচনায় শরিয়ত সহজতার পথ গ্রহণ করেছে।

ইসলাম কখনো মানুষের জন্য কষ্টসাধ্য বিধান আরোপ করেনি; বরং সামর্থ্য অনুযায়ী আল্লাহর ইবাদত করার শিক্ষা দিয়েছে। সফরে থাকলেও নামাজের গুরুত্ব কমে না, তবে পরিস্থিতির কারণে আদায়ের পদ্ধতিতে কিছুটা শিথিলতা দেওয়া হয়েছে। তাই একজন সচেতন মুসলমানের কর্তব্য হলো-যেখানেই থাকুন না কেন, নামাজের সময় হলে তা গুরুত্বের সঙ্গে আদায় করা এবং কিবলামুখী হওয়ার সুযোগ থাকলে তা বজায় রাখা।

আর যখন তা সম্ভব না হয়, তখন শরিয়তের প্রদত্ত সহজতার সুযোগ গ্রহণ করে আল্লাহর সামনে বিনীতভাবে দাঁড়িয়ে যাওয়া। কারণ মুমিনের পরিচয় হলো— সে কোনো অবস্থাতেই তার রবের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে না।

 

একুশে সংবাদ/ওজি

Link copied!