আল্লামা ইবনে মানজুর (রহ.) বলেন, লওহুন অর্থ কাঠের প্রশস্ত যেকোনো পৃষ্ঠ, যার ওপর কিছু লেখা হয়। আর মাহফুজ শব্দের অর্থ সুরক্ষিত বা সংরক্ষিত। লওহে মাহফুজ দ্বারা আল্লাহ তাআলার ইচ্ছাগুলোর সংরক্ষণাগার উদ্দেশ্য।
(লিসানুল আরব : ২/৫৮৪)
পবিত্র কোরআনে লওহে মাহফুজ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘বস্তুত এটা সম্মানিত কোরআন, সংরক্ষিত ফলকে লিপিবদ্ধ।’
(সুরা : বুরুজ, আয়াত : ২১-২২)
আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, ‘লওহে মাহফুজ তথা সুরক্ষিত ফলকে লিপিবদ্ধ থাকার অর্থ হলো এটি উচ্চ পরিষদ কর্তৃক সংযোজন, বিয়োজন, বিকৃতি ও পরিবর্তন থেকে সংরক্ষিত।’
(তাফসিরে ইবনে কাসির : ৪/৪৯৭)
আর আল্লামা ইবনুল কাইয়িম জাওজি (রহ.) লেখেন, ‘শয়তানদের পক্ষে কোরআন নিয়ে অবতীর্ণ হওয়া সম্ভব নয়। কেননা কোরআন যে স্থানে রয়েছে সে স্থানটি শয়তান সেখানে পৌঁছা থেকে সংরক্ষিত।
কোরআন নিজেও সংরক্ষিত; কোনো শয়তান এতে সংযোজন-বিয়োজন করার ক্ষমতা রাখে না। এ জন্য আল্লাহ বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন নাজিল করেছি। নিশ্চয়ই আমিই এর সংরক্ষণকারী।’ (সুরা : হিজর, আয়াত : ৯; আত-তিবয়ান ফি আকসামিল কোরআন, পৃষ্ঠা-৬২)
লওহে মাহফুজ যা দিয়ে তৈরি
লওহে মাহফুজের আকার-আকৃতি সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায় না। তবে হাদিসে এর কিছু বিবরণ রয়েছে।
যেমন আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, লওহে মাহফুজের দৈর্ঘ্য আসমান-জমিনের সমান আর প্রস্থ পূর্ব-পশ্চিমের সমান। আর তা নির্মিত হয়েছে সাদা মণিমুক্তা দ্বারা।
(তাফসিরে ইবনে কাসির : ৪/৪৯৮)
অন্য হাদিসে এসেছে, ‘আল্লাহ তাআলা ধবধবে সাদা মণিমুক্তা থেকে লওহে মাহফুজ সৃষ্টি করেছেন, তার পৃষ্ঠদেশ লাল ইয়াকুত পাথরের। তার কলম নুর, লেখা নুর। আল্লাহ প্রতিদিন তাতে ৩৬০ বার দৃষ্টি প্রদান করেন। প্রতি দৃষ্টিতে তিনি সৃষ্টি করেন, রিজিক দান করেন, মৃত্যু দেন ও জীবন দেন, সম্মানিত করেন ও অসম্মানিত করেন। তিনি যা চান তা-ই করেন।’ (তাবরানি, হাদিস : ১২৫১১)
লওহে মাহফুজ সম্পর্কে মুমিনের বিশ্বাস
ইমাম আবু জাফর ত্বহাবি (রহ.) লওহে মাহফুজ সম্পর্কে মুসলমানের বিশ্বাস সম্পর্কে লেখেন, ‘আর আমরা লওহে মাহফুজে ঈমান রাখি। আরো ঈমান রাখি কলমের ওপর। আর যা আল্লাহ লওহে মাহফুজে লিখে রেখেছেন তার সবকিছুতে, যা সংঘটিত হবে বলে আল্লাহ এই লওহে মাহফুজে লিখে রেখেছেন তা যদি সব সৃষ্ট জীব একত্র হয়েও রোধ করতে চায় তারা সেটা করতে সক্ষম হবে না। পক্ষান্তরে তাতে যে বিষয় সংঘটিত হওয়ার কথা তিনি লেখেননি, সব সৃষ্ট জীব একত্র হয়েও তা ঘটাতে পারবে না। কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যা ঘটবে তা লিপিবদ্ধ হয়ে কলমের কালি শুকিয়ে গেছে। যা বান্দার ভাগ্যে লেখা হয়নি, তা সে কখনোই পাবে না আর যা বান্দার ভাগ্যে লেখা আছে, তা কখনোই বাদ পড়বে না।’
(আকিদাতুত ত্বহাবি, পৃষ্ঠা-১৮)
আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভালো জানেন, তিনিই সর্বোত্তম জ্ঞানী।
মো. আবদুল মজিদ মোল্লা



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

