স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম বলেছেন, তার সন্তানদের নামে কোনো ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়নি; নামের এই মিলটি কেবলই কাকতালীয় বা অলৌকিক ঘটনা।
সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদে ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে জামায়াতের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ অভিযোগ করেন, প্রতিমন্ত্রীর পারিবারিক পরিচয়ের সঙ্গে মিল রেখে একটি ইউনিয়নের নাম ‘মীরবাড়ী’ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি তার দুই সন্তান দিগন্ত ও সীমান্তের নামেও দুটি ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইউনিয়নগুলোর নাম তার সন্তানদের নামে রাখা হয়নি; নামের এই সাদৃশ্য সম্পূর্ণ কাকতালীয়।
এরপর সংসদে দাঁড়িয়ে ব্যক্তিগত কৈফিয়ত দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মাসুদ সাহেব দুর্নীতি দমন কমিশনের ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় গিয়ে আমাকে ছাঁটাই করেছেন। আমি সংসদে ব্যক্তিগতভাবে কৈফিয়ত দিচ্ছি। বগুড়া আমার নির্বাচনি এলাকা। এর মোকামতলা উপজেলার দূরবর্তী দুটি ইউনিয়ন সৈয়দপুর এবং দেউলি। এই দুটি ইউনিয়ন অনেক বড় ছিল।
স্থানীয় প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং জেলা প্রশাসক যাচাই-বাছাই ও গণশুনানি করে সৈয়দপুর ইউনিয়নটি যেহেতু গাবতলী এবং সোনাতলা উপজেলা সীমান্তে, এই কারণে নতুন ইউনিয়নের নাম করেছেন সীমান্ত ইউনিয়ন।
আরেকটি ইউনিয়নের নাম ছিল দেউলি, যেটি গাইবান্ধার একদম কাছে। অনেক দূরবর্তী হওয়ার কারণে স্থানীয় প্রশাসন এবং জনগণের শুনানিতে সেই ইউনিয়নের নাম রেখেছে দিগন্ত ইউনিয়ন।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এখানে সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন যে এই দুটি ইউনিয়ন নাকি আমার দুই সন্তানের নামে রাখা হয়েছে। আমি বলতে চাই, চুয়াডাঙ্গার জীবনগর উপজেলার একটি ইউনিয়নের নাম আছে সীমান্ত ইউনিয়ন, ফেনীর ছাগলনাইয়ায় রয়েছে সীমান্ত বাজার এবং সীমান্ত বন্দর।
কসবা উপজেলায় রয়েছে সীমান্ত বাজার, কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলায় রয়েছে সীমান্ত বন্দর ও হবিগঞ্জ পৌরসভায় রয়েছে দিগন্ত নামের একটি ওয়ার্ড। সন্দ্বীপ উপজেলায় রয়েছে দিগন্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
বান্দরবান চিম্বুকে রয়েছে দিগন্ত বাজার। এরকম সীমান্ত এবং দিগন্ত বহু নাম বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে। উনি কেন এর সঙ্গে আমার সন্তানদের নাম জড়ালেন? অলৌকিকভাবে আমার সন্তানদের নামের সঙ্গে মিলে গেছে ঠিকই, কিন্তু আমার সন্তানের নাম হচ্ছে মীর সীমান্ত এবং মীর দিগন্ত।’
‘আমার যদি টেনশন থাকতো যে সন্তানের নামে করার, তাহলে তো প্রশাসনকে বলতাম ইউনিয়নের নাম রাখেন মীর সীমান্ত এবং মীর দিগন্ত। কিন্তু নামের আগে তো মীর নাই। আল্লাহ বাঁচাইছে, সংসদ সদস্য বলেননি যে বিজিবির সীমান্ত ব্যাংক লিমিটেড, ওটা আমার ব্যাংক না।
উনি দয়া করে যে বলেননি যে খুলনা থেকে পার্বতীপুরে যে ট্রেন যায় সীমান্ত এক্সপ্রেস সেটিও আমার ট্রেন। উনি দয়া করে বলেননি গুলশান-১ এ যে দিগন্ত টাওয়ার রয়েছে সেটিও আমার।
আমি সংসদ সদস্যকে অনুরোধ করবো, দিগন্ত টেলিভিশন আমার না। আমি অনুরোধ করবো, যে কোনো বিষয়ের মধ্যে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে তথ্য না নিয়ে এটা বলার জন্য। আমি স্পিকারকে অনুরোধ করবো, তার এই বক্তব্যটি সংসদ থেকে এক্সপাঞ্জ করা হোক। ব্যক্তিগতভাবে আমি হেয়প্রতিপন্ন হয়েছি বলে মনে করি,’ যোগ করেন তিনি।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

