ঢাকা সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
Ekushey Sangbad
Janata Bank
করোনাভাইরাস মোকাবিলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ৩১ নির্দেশনা

ব্রেক্সিটে বাণিজ্যিক চুক্তি সমাধানের পথে


Ekushey Sangbad
লন্ডন প্রতিনিধি
নভেম্বর ১৬, ২০২০, ০৯:০১ পিএম
ব্রেক্সিটে বাণিজ্যিক চুক্তি সমাধানের পথে

বেক্সিট এখন সবার মুখে মুখে কি পার্লামেন্ট, কি দোকান পাটে, পথে ঘাঁটে, বাসে, ট্রেনে, স্টিমারে কংবা উড়োজাহাজে আর পেপার, পত্রিকা, টেলিভিশন এবং ফেসবুক তো সরগরম মূহুর্তের মধ্যে। যদিও করোনাভাইরাস মহামারি এসে সব কিছুকে স্থমিত করেছে। তারপরও ৩১শে ডিসেম্বর ইইউ থেকে ইউকে'কে বের হয়ে আসতেই হবে। এর বিকল্প নেই। তারপরও সুন্দর সমাধান খুঁজে বেড়াচ্ছেন দু'পক্ষই। সবচেয়ে অন্যান্য চুক্তি যাইহোক বাণিজ্যিক চুক্তিই হচ্ছে মূখ্য বিষয়। বাণিজ্যিক চুক্তির সুস্থ সমাধান হতে পারে বলে আশা করছে ব্রিটেন।
    
আসলে বেক্সিট হলে কার ক্ষতি হবে, কার লাভ হবে? কি কি লাভ বা কি কি ক্ষতি? কি করলে আরও বেশি লাভ করা যাবে অথবা কি কি করলে ক্ষতি থেকে বের হওয়া যাবে? এটা পরিস্কার নয়। কেউই পরিস্কার করেননি। এটা অবশ্যই পরিস্কার করা দরকার। পরিস্কার ধারণা ইউকের সরকার ও ইউরোপিয়ন ইউনিয়নের দেওয়া দরকার।
    
রেফেরেমডমের আগে যদি দুটি পক্ষই তাদের সঠিক কার্যক্রম, মানি ফেস্টুন দিক নির্দেশনা এবং বেক্সিটের পক্ষে বিপক্ষের লাভ ক্ষতি তুলে ধরতেন। তবে আজ এ অবস্থার সৃষ্টি হতো না। তাদের সঠিক ইস্তেহার না দেওয়ার দায় তখনকার প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন সহ তার সমর্থকরা এবং বরিস জনসন ও তার সমর্থকরা এড়াতে পারেন না। পদত্যাগ করে নিজেদের বাঁচাতে পারলেও দেশের জন্য রেখে গেছেন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যত।
     
২০১৬ সালের ২৩শে জুন গণভোটের মাধ্যমে ৫১,৯ বেক্সিটের পক্ষে ভোট দেয় জনগণ। জনগণ পরিস্কারভাবে জানিয়ে দিলো আমরা ইইউ থাকবো না। এবার ঠেলা সামলাও। ভয় পেয়ে ডেভিড ক্যামেরন পালিয়ে গেলে এর দায়ভার পরে দলের অন্যতম কান্ডারী তেরেসা মের ঘাড়ে।সে ভাঁড়ে। সেভারে তেরেসা মে একেবারে নতজানু হয়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এরপর আসেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন । ৩১শে ডিসেম্বর ২০২০ সালে ব্রেক্সিট থেকে বের হয়ে যাওয়া তার নির্বাচনী প্রধান মানিফেস্ত ছিলো। যে কোন উপায়েই হোক তার সেই ওয়াদা বাস্তবায়ন করতে তিনি বদ্ধ পরিকর।

ব্রেক্সিট সমাধানে এখন আলোচনা চলছে ব্রাসেলসে। দুই পক্ষের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অবশ্য বাণিজ্যির চুক্তি প্রাধান্য দিচ্ছে।

সরকারের এক মন্ত্রী বলেছেন, যুক্তরাজ্য এবং ইইউর মধ্যে ব্রেক্সিট পরবর্তী বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে “সমাধান করা যেতে পারে” এবং একটি চুক্তি “সম্পন্ন করা যেতে পারে”।
 
পরিবেশ সচিব জর্জ ইউস্টিস বিবিসির অ্যান্ড্রু মারকে দুই পক্ষের মধ্যে “চুক্তি বিদ্যমান” বলেছিলেন। তবে এর আগে, তিনি স্কাই নিউজকে বলেছিলেন যে একটি চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য এখনও “আমাদের মধ্যে কিছুটা পথ” রয়েছে এবং “সময় খুব সংক্ষিপ্ত”।
 
আইরিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইমন কোভনি বলেছেন, আগামী সপ্তাহে আলোচনা “বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে”।
 
তিনি স্কাইয়ের সোফি রিজকে বলেছিলেন যে বাণিজ্য চুক্তি পাওয়া “কঠিন তবে খুব কার্যকর” এবং ব্যর্থতার পরিণতিও “তাৎপর্যপূর্ণ” হবে।
 
যুক্তরাজ্যের প্রধান আলোচক লর্ড ডেভিড ফ্রস্ট এই শহরে এসে পৌঁছেছেন এবং টুইট করেছেন যে “সাম্প্রতিক দিনগুলিতে ইতিবাচক দিক থেকে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে”।
 
তবে তিনি বলেছিলেন যে এই চুক্তির “গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলি” এখনও সম্মত নয়, তিনি আরও বলেছেন: “আমরা সফল হতে পারি না।”
 
ইউকে এবং ইইউর মধ্যে যে কোনও চুক্তি উভয় পক্ষের সংসদীয়দের দ্বারা অনুমোদন করা দরকার, সুতরাং একটি চুক্তি হওয়ার জন্য এবং ৩১ ডিসেম্বরের আগে সাইন অফ করার জন্য সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে।

এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ১৪ দিনের আইসোলেশনে আছেন। ব্রেক্সিট নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষন চলছে। ব্রেক্সিট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন দুই পক্ষই সমাধানের অনেক দূর এগিয়েছে। বাকী কয়েকটি চুক্তিও সুন্দর ভাবে সমাধান হতে পারে।

একুশে সংবাদ/এআরএম