ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
তাকে সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। তবে জোটের বাকি ১২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রাথমিকভাবে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের মিলনায়তনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। দুদিনব্যাপী এই কার্যক্রমের প্রথম দিনে জামায়াত জোটের ১৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাই করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে একই স্থানে বিএনপি জোটের ৩৬ জন, একজন স্বতন্ত্র এবং আরও তিনজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে।
গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, সরকারি চাকরি ছাড়ার তিন বছরের মধ্যে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ নেই। কিন্তু রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক থেকে চাকরি ছাড়ার মাত্র চার মাসের মাথায় মনিরা শারমিন প্রার্থী হওয়ায় তার মনোনয়নের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে আইনজ্ঞরা মনে করছেন।
বিরোধী জোট জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের ১৩টি আসন পাচ্ছে। এর মধ্যে জামায়াতের আটজন, এনসিপির দুজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের একজন, জাগপার একজন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া এক শিশুর মাকে প্রার্থী করা হয়েছে। তারা মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জোট মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। মনিরা শারমিনের পাশাপাশি এনসিপির নারীশক্তির সদস্যসচিব মাহমুদা আলমও মনোনয়ন পান।
মনিরা শারমিন ২০২৩ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে অফিসার জেনারেল হিসেবে যোগ দেন। প্রথমে কুষ্টিয়া শাখায় কর্মরত ছিলেন, পরে বদলি হয়ে রাজধানীর কারওয়ান বাজার করপোরেট কার্যালয়ে আসেন। সেখানে কর্মরত অবস্থাতেই তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হন এবং গত বছরের ডিসেম্বরে চাকরি ছাড়েন। তার ফেসবুক প্রোফাইলেও নভেম্বর ২০২৩ থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত কৃষি ব্যাংকে কর্মরত থাকার তথ্য উল্লেখ রয়েছে।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

