ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কারচুপি ও ‘ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ অভিযোগ তুলে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সফররত মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক শেষে রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ দাবি জানান।
এ সময় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, রফিকুল ইসলাম খান এমপি, সাইফুল আলম খান মিলন এমপি ও অ্যাডভোকেট শিশির মোহাম্মদ মনিরসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ডা. তাহের বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাহ্যিকভাবে মোটামুটি গ্রহণযোগ্য মনে হলেও সন্ধ্যার পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম, কারচুপি ও জালভোটের অভিযোগ সামনে আসে।”
তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রিজওয়ানা হাসান বলেছেন—যারা নারীর মর্যাদা নিশ্চিত করতে পারেনি, তাদের মূলধারায় আসতে দেওয়া হয়নি এবং বিরোধী আসনে রাখা হয়েছে। তাহেরের ভাষ্য অনুযায়ী, এর অর্থ হচ্ছে—কিছু দলকে পরিকল্পিতভাবে ক্ষমতার বাইরে রাখা হয়েছে।
তার দাবি, “এই নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে আর কারা জড়িত ছিলেন, তা জাতির সামনে স্পষ্ট করতে রিজওয়ানা হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। পুরো সরকার নাকি সরকারের একটি শক্তিশালী অংশ এই প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিল—তা পরিষ্কার হওয়া দরকার।”
ডা. তাহের অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট দলকে ক্ষমতায় আনতে পরিকল্পিতভাবে জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
বিরোধী দলীয় উপনেতা আরও বলেন, “নির্বাচনের দিন অনেক জায়গায় আমাদের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৫৩টি আসনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে এবং সে অনুযায়ী আইনি লড়াই চলমান রয়েছে।”
তিনি বলেন, জনগণ গণভোটের মাধ্যমে সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেও সরকার সেই পথ থেকে সরে এসে জনস্বার্থবিরোধী বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
ডেপুটি স্পিকার নিয়োগ প্রসঙ্গে ডা. তাহের বলেন, সংবিধান অনুযায়ী সরকারের পক্ষ থেকে লিখিত প্রস্তাব এলে বিষয়টি বিবেচনা করবে জামায়াতে ইসলামী। তবে সে ক্ষেত্রে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
এ সময় তিনি বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলে বলেন, “তিনি লন্ডন ষড়যন্ত্রের মূলহোতা ছিলেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতর থেকেই নানা ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন।”
সার্বিকভাবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য সরকারকে দায়ী করে ডা. তাহের বলেন, “এই পরিস্থিতি সরকারের চরম ব্যর্থতার প্রমাণ।”
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

