জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিয়ে তাদের হীনমন্যতায় ভোগাতে চান না তারা। বরং দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করে সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই জামায়াতের লক্ষ্য।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে যশোর ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মানুষ আর পরিবারতান্ত্রিক বা দলকেন্দ্রিক রাজনীতি চায় না। জনগণ চায় জনস্বার্থভিত্তিক রাজনীতি। আসন্ন গণভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে দেশ স্বাধীন চিন্তার পথে যাবে, নাকি পরাধীনতার চক্রে আটকে থাকবে।
জেলা জামায়াতের আমির ও যশোর-৪ আসনের প্রার্থী গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সমাবেশে জামায়াত আমির নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, যারা এখনই মা-বোনদের সম্মান রক্ষা করতে ব্যর্থ, তাদের হাতে দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপদ নয়।
তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, জামায়াত রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও যাতায়াতে নারীদের জন্য পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও পোশাক পালনের অধিকার রক্ষা করা হবে।
যুবসমাজকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, বেকার ভাতা দিয়ে বেকারত্বকে স্থায়ী করা কোনো সমাধান নয়। জামায়াত তরুণদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ কর্মশক্তিতে পরিণত করতে চায়, যাতে তারা নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারে।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও বাজার সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ মানুষ আজ দিশেহারা। জামায়াত এই অব্যবস্থা ভেঙে দেবে এবং ব্যবসায়ীদের চাঁদাবাজির জাঁতাকল থেকে মুক্ত করবে।
তিনি আরও বলেন, যারা বর্তমানে অপরাধ বা চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েছে, তাদের প্রতিশোধের পথে না গিয়ে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
২০০১-২০০৬ মেয়াদে জামায়াতের মন্ত্রীদের ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি দাবি করেন, ওই সময় জামায়াতের মন্ত্রীরা সততা ও দক্ষতার নজির স্থাপন করেছিলেন।
যশোরে নির্বাচনী প্রচারে বাধার অভিযোগ তুলে তিনি প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ভুয়া বা গায়েবি মামলা দিয়ে কাউকে হয়রানি না করার কঠোর নির্দেশ দেন।
সমাবেশের শেষদিকে তিনি আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে সর্বস্তরের জনগণকে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, যারা রক্ত দিয়ে নতুন বাংলাদেশের পথ তৈরি করেছে, তারাই পরিবর্তনের বাংলাদেশ গড়বে।
বক্তব্য শেষে যশোর জেলার ছয়টি আসনের জামায়াত প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’র প্রতিকৃতি তুলে দেন জামায়াত আমির। সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মোবারক হোসেন, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম সাদ্দামসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

