অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব)-এর ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, বেআইনি সিদ্ধান্ত ও পক্ষপাতিত্বের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন এফবিসিসিআই সালিশ ট্রাইব্যুনাল।
এই রায়ের মাধ্যমে আটাবের বিতর্কিত ও অনিয়মপূর্ণ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা বাতিল, শীর্ষ নেতৃত্বের বেআইনিভাবে বাতিলকৃত প্রার্থিতা পুনর্বহাল এবং নতুন পুনঃতফসিল প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনস্থ ‘সাংগ্রিলা ইন’-এ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আটাবের ভুক্তভোগী প্রার্থী ও সাধারণ সদস্যরা বিজ্ঞ ট্রাইব্যুনালের এই ঐতিহাসিক রায়কে স্বাগত জানান এবং একটি স্বচ্ছ, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে বানিজ্য মন্ত্রীর নিকট ৫-দফা দাবি পেশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ জানান, গত ১২/০৬/২০২৬ তারিখে প্রকাশিত আটাব নির্বাচনের ভোটার তালিকায় মারাত্মক অনিয়ম সংঘটিত হয়। যেখানে বাতিলকৃত লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান, ভুয়া ভোটার এবং মৃত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং ৪৬ জন বৈধ সদস্যকে অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হয়। এছাড়া বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা, ২০২৫-এর ভুল প্রয়োগ করে দেশের শীর্ষ ৪ ট্রাভেল ব্যবসায়ীর মনোনয়নপত্র বেআইনিভাবে বাতিল করা হয়েছিল। এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে এফবিসিসিআই সালিশ ট্রাইব্যুনালে দায়েরকৃত মামলা (মামলা নং-৫/২০২৬ এবং ৬/২০২৬)-এর শুনানি শেষে গত ২১ জুলাই, ২০২৬ তারিখে বিজ্ঞ ট্রাইব্যুনাল নিম্নোক্ত মূল সিদ্ধান্তসমূহ প্রদান করেন। তারমধ্যে রয়েছে-প্রার্থিতা পুনর্বহাল, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা বাতিল, পুনঃতফসিলের নির্দেশ ও গম্ভীর পদ্ধতিগত ত্রুটি। প্রশাসনিক আদেশে পূর্বের কমিটি বাতিল হওয়ায় প্রার্থীর মেয়াদের অকাল অবসান ঘটেছিল।
ফলে ‘পরপর ২ মেয়াদ পূর্তি হয়েছে’ অজুহাতে প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ বেআইনি ও বাতিল ঘোষণা করা হয়। এর ফলে আটাবের সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম আরেফ, সাবেক মহাসচিব আফসিয়া জান্নাত সালেহ, সাবেক সহ-সভাপতি জিয়াউর রহমান খান রেজোয়ান এবং সাবেক উপমহাসচিব ইদ্রিস মিয়া—এই ৪ জন শীর্ষ নেতৃত্বের প্রার্থিতা পুনর্বহাল হয়েছে। অনিয়ম ও ভুয়া ভোটারের অভিযোগে বিতর্কিত ১২/০৬/২০২৬ তারিখের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা সম্পূর্ণরূপে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
(কোরাম নন-জুডিস): ৩ সদস্যের আপিল বোর্ডে ১ জন অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর করাকে আদালত এখতিয়ার বহির্ভূত এবং প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের মূল নীতি (যে শোনে তাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে) লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ঘোষিত নির্বাচনী তফসিলের ৩ থেকে ২০ নম্বর কার্যক্রম বাতিল করে নতুনভাবে ‘পুনঃতফসিল’ প্রকাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের রায়ের আলোকে আটাবে একটি স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংবাদ সম্মেলনে মাননীয় বানিজ্য মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে নিম্নোক্ত ৫-দফা দাবি তুলে ধরা হয়:
১. বিতর্কিত নির্বাচন ও আপিল বোর্ড পুনর্গঠন: অনিয়ম ও কোরাম ভঙ্গের দায়ে বিদ্যমান নির্বাচন বোর্ড ও আপিল বোর্ড অবিলম্বে অপসারণ করে নিরপেক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে উভয় বোর্ড পুনর্গঠন করতে হবে।
২. সকল বৈধ প্রার্থীর অন্তর্ভুক্তি: প্রার্থিতা ফেরত পাওয়া চারজনসহ অন্যায়ভাবে বাতিলকৃত সকল বৈধ প্রার্থীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দিতে হবে। ৩. স্বচ্ছ ভোটার তালিকা প্রণয়ন: বাতিলকৃত ভোটার তালিকার পরিবর্তে ভুয়া ও বাতিল লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান বাদ দিয়ে আইনানুগ নতুন প্রাথমিক ও চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে।
৪. আইনানুগ পুনঃতফসিল: এফবিসিসিআই ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী অবিলম্বে নতুন সময়সূচি নিয়ে ‘পুনঃতফসিল’ ঘোষণা করতে হবে।
৫. লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ: নির্বাচনে সকল প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এ সময় বক্তব্য রাখেন আফসিয়া জান্নাত সালেহ সাবেক মহাসচিব আটাব,
প্যানেল প্রধান এএসএম ইব্রাহিম, দিদারুল হক, মাহমুদুল আলম সিদ্দিকী। আটাবের সাধারণ সদস্য ও ভুক্তভোগী নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন যে, দ্রুততম সময়ে সব আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে আটাবে একটি গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

