AB Bank
  • ঢাকা
  • বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে ফিরলেন আরও ১০৯ বাংলাদেশি


Ekushey Sangbad
নিজস্ব প্রতিবেদক
০১:৩৭ পিএম, ১ জুলাই, ২০২৬

কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে ফিরলেন আরও ১০৯ বাংলাদেশি

কম্বোডিয়ার বিভিন্ন সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে উদ্ধার হওয়ার পর আরও ১০৯ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত ১টা ২৫ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।

সংস্থাটি জানায়, গত চার দিনে কম্বোডিয়া থেকে মোট ৩৬২ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। আর জুন মাসে ফিরেছেন মোট ৫৮৩ জন। দেশে ফিরে আসা প্রত্যেককে বিমানবন্দরে সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি, প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক এবং ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের যৌথ উদ্যোগে জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং নিজ নিজ বাড়িতে যাওয়ার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

ফিরে আসা লক্ষ্মীপুরের এক ভুক্তভোগী জানান, একটি রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালাল চক্র তাকে কম্পিউটার অপারেটরের চাকরির আশ্বাস দিয়ে কম্বোডিয়ায় পাঠায়। এ জন্য তার কাছ থেকে ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয় এবং বিএমইটির ছাড়পত্রও সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছে তিনি মাত্র এক মাসের ভিজিট ভিসা পান। পরে বাংলাদেশি দালালদের মাধ্যমে তাকে একটি সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

আরেক ভুক্তভোগীর ভাষ্য, তাদের দিয়ে বিদেশি নাগরিকদের লক্ষ্য করে অনলাইনে প্রতারণা করানো হতো। নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ করতে না পারলে মারধর, শারীরিক নির্যাতন এবং বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হতো। স্ক্যাম কম্পাউন্ডে নির্যাতনের জন্য আলাদা টর্চার সেলও ছিল। সম্প্রতি কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের সময় স্ক্যাম চক্রের সদস্যরা পালিয়ে গেলে তারা মুক্তি পান।

ইতোমধ্যে দেশে ফেরা কয়েকজন ভুক্তভোগী মামলা দায়ের করেছেন। সংশ্লিষ্টরা দালাল, রিক্রুটিং এজেন্সি এবং আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রকে শনাক্ত করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে ১৫ হাজার ৯২১ জন বাংলাদেশি কম্বোডিয়ায় গেছেন। তবে দেশে ফেরা ভুক্তভোগীদের দাবি, এখনো হাজার হাজার বাংলাদেশি সেখানে প্রতারণার শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের অধিকাংশকে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে নেওয়া হয়েছিল।

ব্র্যাক জানায়, দেশে ফেরা অনেকের কাছেই বিএমইটির বৈধ ছাড়পত্র ছিল। এর আগে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি মিয়ানমারের একটি সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে আটজন এবং ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর আরও ১৮ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছিলেন। তাদেরও ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে থাইল্যান্ড সীমান্ত হয়ে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক সাইবার প্রতারণার কাজে নিয়োজিত করা হয়।

ব্র্যাক আরও জানায়, কম্পিউটার অপারেটর, কল সেন্টার এক্সিকিউটিভ, কাস্টমার সার্ভিসসহ আকর্ষণীয় বিভিন্ন পদের চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে ভুয়া ওয়েবসাইট, ই-মেইল, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের প্রলুব্ধ করা হয়। পরে তাদের স্ক্যাম কম্পাউন্ডে নিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে বাধ্য করা হয়।

এ অবস্থায় থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, মিয়ানমার, লাওস ও ভিয়েতনামে চাকরির উদ্দেশ্যে যাওয়ার আগে চাকরির সত্যতা, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এবং ভিসার ধরন ভালোভাবে যাচাই করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তথ্য নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে ব্র্যাক।

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

Link copied!