আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো সশস্ত্র বাহিনীর (সেনা) সদস্যদের ভোটের দায়িত্বে মোতায়েন না করার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আসন্ন নভেম্বর-ডিসেম্বর সময়কে লক্ষ্য রেখে স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি গুছিয়ে নিচ্ছে সংস্থাটি।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে ১২টি সিটি করপোরেশন, ৪৫০টি উপজেলা পরিষদ, তিন শতাধিক পৌরসভা, প্রায় ৬০০টি ইউনিয়ন পরিষদ এবং ৬১টি জেলা পরিষদ নির্বাচন উপযোগী অবস্থায় রয়েছে। এর বাইরে আগামী জুলাইয়ের মধ্যে আরও প্রায় ২,৮০০টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনযোগ্য হবে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন সীমানা নির্ধারণ ও প্রশাসনিক জটিলতা নিয়ে কাজ চলছে। বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ কিছু নতুন বা পরিবর্তিত সীমানা এলাকায় আইনি জটিলতা থাকলে তা তফসিল ঘোষণার আগেই নিষ্পত্তি করতে হবে।
এদিকে নির্বাচন সংক্রান্ত বিধিমালা সংশোধনের কাজও চলমান রয়েছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে—প্রার্থীদের ভোটার সমর্থনের বাধ্যবাধকতা বাদ দেওয়া, ইভিএম ও পোস্টার ব্যবহার বন্ধ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার বিধিমালা তৈরি, জামানত বৃদ্ধি, এবং নির্বাচনী প্রচারে এমপিদের প্রভাব সীমিত করার বিষয়।
ইসি জানিয়েছে, বর্ষা মৌসুম ও বাজেট সংক্রান্ত প্রস্তুতির কারণে ভোট আয়োজন কিছুটা সময়সাপেক্ষ হতে পারে। ফলে শীতকাল, অর্থাৎ নভেম্বর-ডিসেম্বরকে ভোটগ্রহণের উপযুক্ত সময় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনসহ পাঁচ স্তরের স্থানীয় নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু হতে পারে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, “বর্তমানে আমাদের মূল কাজ বিধিমালা সংশোধন ও প্রস্তুতি। সেনা মোতায়েন নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।”
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

