AB Bank
  • ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

জাবিতে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা সাংবাদিকদের এআই এনহ্যান্সড ছবি সরবরাহ, বিভ্রান্তিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা



জাবিতে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা সাংবাদিকদের এআই এনহ্যান্সড ছবি সরবরাহ, বিভ্রান্তিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার পর অভিযুক্তের পরিচয় শনাক্তে সাংবাদিকদের কাছে এআই এনহ্যান্সড প্রযুক্তিতে উন্নত করা স্থিরচিত্র সরবরাহ করাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্তিতে ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১২ মে ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, ভুক্তভোগীসহ বেশ কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করেন।

তবে অভিযোগ উঠেছে যে, সে সময় সাংবাদিকদের সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে দেওয়া হয়নি এবং তথ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে চরম অসহযোগিতা করা হয়েছে। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন গ্রুপে অভিযুক্তের এআই-জেনারেটেড ছবি ছড়িয়ে পড়ে, যা বিভ্রান্তি আরও বাড়িয়ে দেয়।

এমনকি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছেও এই কৃত্রিম ছবিই সরবরাহ করা হয়। দেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এই ভুল ছবি প্রকাশিত হওয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ধরণের সংশোধনী বা ব্যাখ্যা না দিয়ে নীরব ভূমিকা পালন করেছে, যাকে প্রশাসনের চরম উদাসীনতা ও ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

ওখানে অবস্থানরত সাংবাদিকরা জানান, লামিসার নেতৃত্বে কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে বাধা প্রদান করে। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং একজন সহকারী প্রক্টরে চাপ প্রয়োগ করে তিনি সাংবাদিকদের দূরে রাখেন। লামিসাকে একাধিক বার ছাত্র ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক ফাইজান আহমেদ অর্ক সহ একাধিক নেতাকর্মীর  সঙ্গে ঘটনাস্থলে আলোচনা করতে দেখা যায়।

এদিকে, শুক্রবার (১৫ মে) বিকেল সাড়ে পাঁচটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকদের কিছু মূল সিসিটিভি স্থিরচিত্র সরবরাহ করেন। তবে ওই ছবিগুলোর সঙ্গে আগের দেওয়া এআই এনহ্যান্সড ছবির তুলনা করলে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে বলে গণমাধ্যমকর্মীরা জানান।

এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের জুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে । মূল ছবি না দিয়ে এআই এনহ্যান্সড ছবি গণমাধ্যমে সরবরাহের শিক্ষক- শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্তিতে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে । অনেকে অভিযোগ করছেন উদ্দেশ্যমূলকভাবে  এআই এনহ্যান্সড ছবি দেওয়া হয়েছে।

ফলে শুধু ক্যাম্পাসে না পুরো দেশজুড়ে অভিযুক্তের বিষয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে । এমনকি ঢাকা জেলা পুলিশ তাদের ফেসবুক পোস্টে এআই এনহ্যান্সড ছবি পোস্ট করে অভিযুক্তের ব্যাপারে তথ্য জানতে চেয়েছেন এবং পুরস্কার ঘোষণা করেছেন।

এবিষয়ে আজকের পত্রিকার জাবি প্রতিনিধি মুসফিক রেজওয়ান বলেন, ঘটনার পরবর্তী সময়ে প্রথমদিকে একদল নারী শিক্ষার্থী প্রশাসনের কাছে দাবি করে কেউ যাতে ভিতরে ঢুকতে না পারে। ফলে আমরা সাংবাদিকরা এবং জাকসুর প্রতিনিধিরা ভিতরে প্রবেশ করতে পারিনি।

এরপর প্রায় ২-৩ ঘণ্টা পর আমাদের কেউ চাইলে একজন করে ভিতরে যেতে পারবে বলে জানানো হয় । কিন্তু এরমধ্যে অনেকে স্যোশাল মিডিয়ায় এআই জেনারেটেড ছবিটি প্রচার করলে সাংবাদিকরা সেই ছবি দিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করেন।

এবিষয়ে জাকসুর সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বাপ্পি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, সেদিন  এআই জেনারেটেড একটা ছবি দিয়ে অভিযুক্তের চেহারা ও মাদরিদের জার্সি পরিবর্তন করা হয়েছে।

ভিক্টিমের দোহাই দিয়ে সেদিন জাকসুর নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের ভিতরে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজও দেখতে দেওয়া হয়নি, যখন ওনারা ভিতরে গিয়েছিল ততক্ষণে এআই জেনারেটেড ছবি প্রকাশ করে সবাইকে বিভ্রান্ত করা হয়ে গেছে। কারা সেদিন সাংবাদিক ও নেতৃবৃন্দকে প্রবেশ করতে দেয়নি তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। সবকিছুর পিছনে বড় কোনো ষড়যন্ত্রের সম্ভবনা রয়েছে।

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩ তম ব্যাচের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী লামিসা জামান বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে অভিযুক্তের মুভমেন্টের কারণে ছবি স্পষ্ট আসছিল না। একারণে ভিতরে চারটি ছবি ক্লিয়ার করা হয় এবং ভুক্তভোগীকে ছবিগুলো দেখানো হয় না। এরমধ্যে ভুক্তভুগী যে ছবিটি সিলেক্ট করেন এবং সবথেকে বেশি মিল পাওয়া যায় সেই ছবিটি আমি বাইরে এসে সাংবাদিক এবং অন্যান্যদের দেই।

এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এআই এনহ্যান্সড ছবিটি কাউকে দেই নাই । আমরা পুলিশ প্রশাসনকে মূল ফুটেজ এই দিয়েছি । তবে পাবলিকলি ছবিটি আমরা প্রকাশ করি নাই, আমাদের আরও আগেই ছবিটি পাবলিক করলে ভালো হতো ।

 

 

একুশে সংবাদ/ওজি

Link copied!