মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা প্রশমনে আজ শনিবার ইসলামাবাদে বসছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বহুল আলোচিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। এই আলোচনাকে ঘিরে পাকিস্তানের রাজধানীতে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
বৈঠকে অংশ নিতে ইতোমধ্যে ইরানের প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের নেতৃত্বে দলে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। অন্যদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও প্রতিনিধি দল নিয়ে পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে।
বৈঠককে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদের কূটনৈতিক এলাকা ‘রেড জোন’-এ জারি করা হয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ। সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত মোতায়েন রয়েছে। সংবাদকর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট ভেন্যু নির্ধারণ করা হলেও মূল আলোচনাস্থলে নিরাপত্তা জোরদার রাখা হয়েছে।
তবে এত প্রস্তুতির মধ্যেও আলোচনার ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। বিশেষ করে লেবাননে চলমান ইসরায়েলি হামলা ইস্যুতে দুই পক্ষের অবস্থানে পার্থক্য রয়েছে। ইরান চাইছে এই বিষয়টিও আলোচনার আওতায় আসুক, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে ইসলামাবাদে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে সম্ভাব্য প্রস্তাবের ইঙ্গিত মিললেও পরে সেটি সরিয়ে নেওয়া হয়, যা আলোচনার গোপনীয়তা নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে পারস্পরিক মতপার্থক্য দূর না হলে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন কঠিন হতে পারে।
একুশে সংবাদ/যাবিদ



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

