দীর্ঘ দুই বছর বন্ধ থাকার পর আবারও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য খুলতে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। তবে এবার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আনা হচ্ছে বড় ধরনের পরিবর্তন, যেখানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
সম্প্রতি পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী আর রামানানের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিনের বৈঠকে দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি হয়।
নতুন ব্যবস্থায় অভিবাসন ব্যয়ের পুরো দায়িত্ব থাকবে নিয়োগকর্তার ওপর, ফলে কর্মীদের আর অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হবে না। পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়া তদারকিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমাতে সহায়ক হবে। কেবলমাত্র অনুমোদিত ও লাইসেন্সধারী এজেন্সিগুলো এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাজারটি ধাপে ধাপে চালু করা হবে। এরই অংশ হিসেবে নির্মাণ খাতে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৮০০ কর্মী ইতোমধ্যে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে মালয়েশিয়ায় ৮ থেকে ৯ লাখ বাংলাদেশি বৈধভাবে কর্মরত আছেন, যা দেশটির মোট বিদেশি শ্রমিকের একটি বড় অংশ। শিল্পকারখানা, নির্মাণ ও কৃষি খাতে বাংলাদেশিদের চাহিদা অব্যাহত থাকায় আগামী এক বছরে আরও ৩০ থেকে ৪০ হাজার কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।
শুক্রবার কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, প্রবাসীদের সমস্যা সমাধান ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর বাস্তবায়নই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেন, অতীতের জটিলতা একদিনে দূর করা সম্ভব না হলেও সরকার প্রবাসী কর্মীদের স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে কর্মপরিবেশ উন্নয়ন, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
একুশে সংবাদ/যাবিদ



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

