ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
কমিটিকে আগামী ১১ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে জরুরি বিভাগের চিকিৎসা সেবা পুনরায় চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার রাত ১০টা ৫ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রশাসনিক ব্লকে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এ তথ্য জানান।
ঘটনার সূত্র অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত জেনারেল সার্জারি বিভাগের এক চিকিৎসক রোগীকে পরীক্ষা করে অন্যান্য চিকিৎসার পাশাপাশি ‘নেলবান’ নামে একটি ইনজেকশন বাইরে থেকে কিনে আনতে বলেন, কারণ সেটি হাসপাতালে মজুদ ছিল না।
শিক্ষার্থীর সঙ্গে থাকা সহপাঠীরা ইনজেকশনটি সংগ্রহ করতে বাইরে গেলেও কোথাও তা পাননি। পরে তারা হাসপাতালে ফিরে এসে চিকিৎসকের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জরুরি বিভাগের প্রধান প্রবেশপথ ‘কেচি গেট’ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং সাময়িকভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়।
ঘটনার পর একদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অবস্থান নেন, অন্যদিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হাসপাতালের ভেতরে অবস্থান করেন। মাঝখানে কেচি গেট তালাবদ্ধ রাখা হয়।
এ বিষয়ে জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মোস্তাক আহমেদ জানান, প্রেসক্রাইব করা ইনজেকশনটি প্যাসিডিনজাতীয় হওয়ায় অনেক ওষুধ বিক্রেতা তা দিতে অনিচ্ছুক হতে পারেন। তবে সাধারণত এ ধরনের ইনজেকশন বাজারে পাওয়া যায়।
তিনি আরও জানান, চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি বিভাগের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এছাড়া কিছু শিক্ষার্থী গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

