হরমুজ প্রণালির নৌপথ সচল রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি অন্যান্য দেশকেও যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রয়োজনে উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক বোমা হামলার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৪ মার্চ) ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিত্র দেশগুলোকেও নৌবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চীন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো এ উদ্যোগে অংশ নেবে।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রণালিটি বন্ধ করা হয়নি এবং এটি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। একই সঙ্গে শত্রু দেশের জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
এদিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকার খবর পাওয়া গেছে। শিল্পনগরী ইসফাহানে যৌথ বিমান হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে তেহরানে হামলায় ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া জরুরি কমান্ডের গোয়েন্দা শাখার দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আবদুল্লাহ জালালি-নাসাব ও আমির শরিয়াত নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এর আগে ওই ইউনিটের প্রধান সালেহ আসাদিও নিহত হয়েছেন বলে জানায় তেহরান।
অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ৫০তম ধাপের অভিযানের কথা জানিয়েছে।
সংঘাতের প্রভাব উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়েও পড়েছে। কুয়েতের আহমদ আল জাবের বিমানঘাঁটির কাছে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করেছে এবং দেশটির একটি বিমানবন্দরেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে দুটি ড্রোন আঘাত হেনেছে বলে নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে।
এছাড়া লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের টাইর ও তাইয়্যেবে এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। পাল্টা জবাবে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের গোরেন এলাকায় রকেট হামলার দাবি করেছে।
এ পরিস্থিতিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে তাদের ভূখণ্ড থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাতা অঞ্চলকে নিরাপদ না করে বরং নতুন সংঘাতের জন্ম দিচ্ছে।
তেহরান আরও সতর্ক করে বলেছে, ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, আবুধাবি ও ফুজাইরাহ বন্দরের আশপাশ এলাকা খালি করার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে বলে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

