নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বরপা এলাকায় অবস্থিত ব্রাদার্স গার্মেন্ট কোঃ লিঃ কারখানার শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছে।
শনিবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে কারখানার শ্রমিকরা ।
প্রায় পাঁচ ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এ সময় দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে মোট শ্রমিক রয়েছেন ১ হাজার ২৭৫ জন। এর মধ্যে নারী শ্রমিক ৭০০ জন ও পুরুষ শ্রমিক ৫৭৫ জন। এছাড়া স্টাফ রয়েছেন ২৭৫ জন। শ্রমিকদের অভিযোগ, ডিসেম্বর মাসের অর্ধেক বেতন এবং জানুয়ারি মাসের পূর্ণ বেতন এখনো পরিশোধ করা হয়নি। একাধিকবার মালিকপক্ষের কাছে দাবি জানানো হলেও নির্দিষ্ট সময়সীমা না পাওয়ায় তারা আন্দোলনে নামেন।
শ্রমিকরা জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রথমে কয়েকটি সেকশনের শ্রমিক কারখানার সামনে জড়ো হন। পরে তারা ঢাকা–সিলেট মহাসড়কে উঠে অবস্থান নেন। ধীরে ধীরে অন্যান্য সেকশনের শ্রমিকরাও যোগ দিলে সড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও ব্যক্তিগত যানবাহন আটকে পড়ে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।

খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে। শিল্প পুলিশের এসপি অনিক চৌধুরীর নেতৃত্বে তিনটি টিম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ও রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে উত্তেজনা তৈরি হয়।
দুপুর ১টার দিকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে শ্রমিকরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। এতে ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। প্রায় এক ঘণ্টা সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।
সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হন। এছাড়া পাঁচ থেকে ছয়জন পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ সময় মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু, নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য, ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি শ্রমিকদের দাবির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার আশ্বাস দেন এবং মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ন্যায্য পাওনা দ্রুত পরিশোধের ব্যবস্থা করবেন বলে জানান। তার আশ্বাসের পর শ্রমিকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হলে দুপুর ২টার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা কারখানা মালিকপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন। শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্তের আশ্বাস দেওয়া হলে আন্দোলন স্থগিত করা হয়।
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

