AB Bank
  • ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

থার্ড টার্মিনাল চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর


Ekushey Sangbad
স্টাফ রিপোর্টার
০৪:০২ পিএম, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

থার্ড টার্মিনাল চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থায় নতুন মোড় এসেছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল নিয়ে। অবশেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালু হচ্ছে আকাশপথের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বহুল আলোচিত তৃতীয় টার্মিনাল। প্রায় তিন বছর ধরে বৈঠক, দর-কষাকষি ও সিদ্ধান্তহীনতার আবর্তে আটকে থাকা প্রকল্পটির পরিচালনায় এবার আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের পথে হাঁটছে কর্তৃপক্ষ।

সর্বশেষ বিমানবন্দরের এই থার্ড টার্মিনাল চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বৈঠক শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।

এর আগে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল নিয়ে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল রোববার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এ সময় সভায় উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। এছাড়া বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

আফরোজা খানম জানান, প্রধানমন্ত্রী চেষ্টা করছেন যাতে দ্রুত থার্ড টার্মিনাল চালু করা যায়। সে ব্যাপারে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন।

থার্ড টার্মিনাল কবে নাগাদ চালু হবে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কবে নাগাদ চালু হবে তা এখনই বলা যাবে না। এখন আলাপ-আলোচনা হবে, তদন্ত হবে, কীভাবে দ্রুত করা যায় তা নিয়ে কাজ চলছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দেওয়া যাবে না।

থার্ড টার্মিনাল নিয়ে বেশ কিছু সুপারিশ ছিল, কিছু অংশ ভাঙতে হবে, নেটওয়ার্ক সমস্যা ছিল, ৯৯ শতাংশের বেশি কাজ সম্পন্ন হয়েছে—তারপরও কেন চালু করা সম্ভব হয়নি—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কেন চালু হয়নি, তা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের বিষয়। প্রশ্নটি তাদের করা যেত। এখন প্রধানমন্ত্রী চেষ্টা করছেন যাতে দ্রুত চালু করা যায়। সে ব্যাপারে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) একজন কর্মকর্তা বলেন, বৈঠকে থার্ড টার্মিনালের অগ্রগতি এবং কীভাবে দ্রুততম সময়ে চালু করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ব্রিফ করেছি। তিনি কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। সেগুলোর ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জাপানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আবার বৈঠক হবে।

তিনি আরও বলেন, বিমান মন্ত্রণালয়ে নতুন মন্ত্রী এসেছেন। তারাও সমস্যাগুলো বোঝার চেষ্টা করছেন। এটি ছয় বছরের পুরোনো বিষয়। দেখা যাক কী হয়।

থার্ড টার্মিনাল পরিচালনা নিয়ে নতুন করে টেন্ডার হবে কি না—এ বিষয়ে তিনি বলেন, এখনই এ বিষয়ে কিছু বলা যাবে না। এটি একটি জি-টু-জি ইস্যু।

জানা গেছে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পায় ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর। সে সময় ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। পরে আরও ৭ হাজার ৭৮৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বাড়িয়ে প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। এ ব্যয়ের বড় অংশ জাপানি সহযোগিতা সংস্থা জাইকা থেকে এসেছে।

শাহজালালে বর্তমানে দুটি টার্মিনাল রয়েছে, যার মোট আয়তন এক লাখ বর্গমিটার। নতুন তৃতীয় টার্মিনালের আয়তন হবে দুই লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার—যা বর্তমান দুটি টার্মিনালের দ্বিগুণেরও বেশি।

প্রকল্প অনুমোদনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের এপ্রিলের মধ্যে। ঢাকা কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে জাপানের মিৎসুবিশি ও ফুজিটা এবং কোরিয়ার স্যামসাং যৌথভাবে টার্মিনালটি নির্মাণ করছে। এতে থাকবে ৩৭টি অ্যাপ্রোন পার্কিং সুবিধা। বর্তমানে শাহজালালে চারটি ট্যাক্সিওয়ে রয়েছে; নতুন করে আরও দুটি হাই-স্পিড ট্যাক্সিওয়ে যুক্ত হওয়ার কথা।

বেবিচকের তথ্যানুযায়ী, থার্ড টার্মিনালে থাকবে ২৬টি বোর্ডিং ব্রিজ (প্রথম ধাপে চালু হবে ১২টি), ৩৬টি পার্কিং বে, ১৫টি সেলফ-সার্ভিস চেক-ইন কাউন্টারসহ মোট ১১৫টি চেক-ইন কাউন্টার। এছাড়া ১০টি স্বয়ংক্রিয় পাসপোর্ট কন্ট্রোল কাউন্টারসহ ৬৬টি ডিপারচার ইমিগ্রেশন কাউন্টার থাকবে।

আগমনের ক্ষেত্রে পাঁচটি স্বয়ংক্রিয় কিয়স্কসহ মোট ৫৯টি পাসপোর্ট কন্ট্রোল কাউন্টার ও ১৯টি অ্যারাইভাল কাউন্টার থাকবে। পাশাপাশি ১৬টি আগমনী ব্যাগেজ বেল্ট স্থাপন করা হবে। গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য মাল্টিলেভেল কার পার্কিং ভবন নির্মাণ করা হবে, যেখানে ১ হাজার ৩৫০টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।

প্রায় ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অত্যাধুনিক এই টার্মিনালের ভৌত কাজ ৯৯ শতাংশের বেশি সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু পরিচালনার জন্য উপযুক্ত অপারেটর চূড়ান্ত না হওয়ায় এখনো কার্যক্রম শুরু করা যায়নি।

সংকট নিরসনে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের অনুমতি চেয়ে চিঠি দিয়েছেন। গত ৯ ফেব্রুয়ারি বেবিচকের সদর দপ্তর থেকে পাঠানো ওই চিঠিতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় ‘তৃতীয় টার্মিনাল অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স’ প্রকল্প বাস্তবায়নের বিকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

বেবিচক সূত্র জানায়, গত তিন বছরে সংস্থাটির চেয়ারম্যান তিনবার পরিবর্তন হয়েছে। নির্মাণ ব্যয় পরিশোধ-সংক্রান্ত জটিলতা, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত কার্গো ভিলেজ ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়া এবং অপারেটর নিয়োগে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে প্রকল্পটি নানা সংকটে পড়ে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে থার্ড টার্মিনাল নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থার্ড টার্মিনালের আংশিক উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তখন বেবিচক জানিয়েছিল, ২০২৪ সালেই পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হবে। তবে তা আর সম্ভব হয়নি।

অন্তর্বর্তী সরকারও দফায় দফায় চেষ্টা করেও টার্মিনালটি চালু করতে পারেনি। মূলত গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও অপারেশন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারা এবং ভবনের ভেতরে কিছু কারিগরি ত্রুটির কারণেই টার্মিনাল চালু করা সম্ভব হয়নি।

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

Link copied!