AB Bank
  • ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতিহারে সড়ক নিরাপত্তা অন্তর্ভুক্ত করায় ইলিয়াস কাঞ্চনের ধন্যবাদ


Ekushey Sangbad
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৯:১০ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতিহারে সড়ক নিরাপত্তা অন্তর্ভুক্ত করায় ইলিয়াস কাঞ্চনের ধন্যবাদ

সড়ক দুর্ঘটনাকে বাংলাদেশের একটি দীর্ঘদিনের জাতীয় সংকট উল্লেখ করে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতিহারে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ধন্যবাদ জানিয়েছেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস কাঞ্চন।

নিসচা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী হারানোর শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে ইলিয়াস কাঞ্চন ১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের সূচনা করেন। গত ৩৩ বছর ধরে তিনি সড়ক নিরাপত্তাকে জাতীয় ইস্যুতে পরিণত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

নিসচার অভিজ্ঞতা, গবেষণা ও পরিসংখ্যানের আলোকে সংগঠনটি মনে করে, একক কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের পক্ষে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় সদিচ্ছা, শক্তিশালী আইন, কার্যকর প্রয়োগ, রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং দলমত নির্বিশেষে সম্মিলিত উদ্যোগ।

এই বাস্তবতা উপলব্ধি করে গত দুই বছর ধরে ইলিয়াস কাঞ্চন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় তিনি তুলে ধরেন—সড়ক দুর্ঘটনা কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়, এটি একটি মানবিক ও জাতীয় সংকট। তাই নির্বাচনী ইশতিহারে সড়ক নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে অন্তর্ভুক্ত করা এবং ক্ষমতায় গেলে তা বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি থাকা জরুরি।

এরই ধারাবাহিকতায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের নির্বাচনী ইশতিহারে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেছে। ইশতিহারে বলা হয়েছে, সড়ক নিরাপত্তা আইন ও সড়ক দুর্ঘটনা রোধে একটি সমন্বিত ও টেকসই কৌশল গ্রহণ করা হবে। চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স নিশ্চিত করা, যানবাহনের ফিটনেস যাচাই, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সড়কে শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীল আচরণ গড়ে তোলার কথাও উল্লেখ করা হয়। এ লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করা হয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও তাদের নির্বাচনী অঙ্গীকারে নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন আইন প্রণয়ন ও বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর এ উদ্যোগকে নিসচা আন্দোলনের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিফলন উল্লেখ করে সংগঠনের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। লন্ডনে চিকিৎসাধীন ইলিয়াস কাঞ্চনের পক্ষে নিসচার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিরাজুল মইন জয় বলেন, “যে দলই রাষ্ট্রক্ষমতায় আসুক না কেন, শুধু ক্ষমতাসীন দলের একক উদ্যোগে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন বিরোধী দলসহ সব রাজনৈতিক শক্তির আন্তরিক সহযোগিতা, প্রশাসনের জবাবদিহি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোরতা, গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং সর্বস্তরের জনগণের সচেতন অংশগ্রহণ।”

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী ইশতিহারে দেওয়া অঙ্গীকারগুলো যেন কেবল প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং সরকার গঠনের পর তা দ্রুত বাস্তবায়নের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। চালক প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স ব্যবস্থার সংস্কার, ফিটনেসবিহীন যানবাহন বন্ধ, পথচারী নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সড়ক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং একটি শক্তিশালী সড়ক নিরাপত্তা আইন কার্যকর করার মাধ্যমেই প্রাণহানি কমানো সম্ভব।

নিসচা মনে করে, রাজনৈতিক অঙ্গীকার যদি বাস্তবে রূপ নেয় এবং সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে, তবে বাংলাদেশে একটি মানবিক, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। এ লক্ষ্যেই সংগঠনটি ভবিষ্যতেও দলমত নির্বিশেষে সকলের সঙ্গে কাজ করে যাবে।

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

Link copied!