ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনরতরা শনিবার নতুন কর্মসূচি ঘোষণার কথা জানিয়ে রাজধানীর শাহবাগ এলাকা ছেড়ে গেছেন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ ত্যাগ করেন। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক এবি জোবায়ের ও সংস্কৃতি সম্পাদক মোসাদ্দেক ইবনে সৈকত সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
শাহবাগ ছাড়ার আগে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেন, সংগঠনের পক্ষ থেকে শনিবার নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সেই কর্মসূচির আলোকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এর আগে রাতে ইনকিলাব মঞ্চের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করা হয়, আওয়ামী লীগ সক্রিয় হয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। পোস্টে ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবির আন্দোলন এবং নির্বাচনকে বানচালের ষড়যন্ত্রের আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করে সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
এর আগে শুক্রবার দুপুরের পর হাদি হত্যার তদন্ত ও জড়িতদের বিচারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। এ সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।
বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় থেকে যমুনার দিকে অগ্রসর হলে আন্দোলনকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন। এতে পুলিশ আবারও জলকামান ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে। পরে ছত্রভঙ্গ হয়ে আন্দোলনকারীরা বাংলামোটর মোড়ে অবস্থানের চেষ্টা করলে সেখানে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
পরবর্তীতে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শাহবাগ থেকে আন্দোলনকারীদের একাংশ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে তারা আবার শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিলেও পরিস্থিতির অবনতি ও সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাহবাগ এলাকা ত্যাগ করে আন্দোলনকারীরা।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

