আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তিনি বলেন, এখন ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কিছু আসনে ব্যালট পেপার পাঠানোর কাজ এখনও বাকি থাকলেও আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তা শেষ হবে বলে জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এত বড় পরিসরে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি এর আগে কখনো দেখা যায়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এখন পর্যন্ত নির্বাচনকে ঘিরে বড় কোনো ধরনের সমস্যা দেখা যায়নি বলেও জানান এই নির্বাচন কমিশনার।
ভোটার উপস্থিতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে ভোটের হার আনুমানিক ৫৫ শতাংশের আশপাশে থাকতে পারে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দেশের ১১৬টি সংসদীয় আসনে ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট পেপার পৌঁছে গেছে। বাকি আসনগুলোতে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই ব্যালট পাঠানো হবে।
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, আদালতের নির্দেশে শেষ সময়ে কয়েকজন প্রার্থীর প্রার্থিতা পুনর্বহাল হওয়ায় কিছু আসনে ব্যালট পেপার পুনর্মুদ্রণ করতে হয়েছে। এ কারণে সামান্য বিলম্ব হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব ব্যালট পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে তিনি জানান, নির্বাচনের আগে ও পরে মোট সাত দিন সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে। আনসার বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে আট দিন। পুলিশ ইতোমধ্যে মাঠে রয়েছে এবং সেনাবাহিনী আংশিকভাবে মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনকালীন সময়ে এক হাজার ৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন, যারা ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন। বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদেরও একই সময়ে মাঠে থাকার কথা রয়েছে।
ইসি সূত্র জানায়, এবারের সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ছয় কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ছয় কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং হিজড়া ভোটার এক হাজার ২৩২ জন।
ভোটারের সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে কম ভোটার রয়েছে ঝালকাঠি-১ আসনে, যেখানে ভোটার দুই লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন। আর সবচেয়ে বেশি ভোটার রয়েছে গাজীপুর-২ আসনে, যেখানে ভোটার সংখ্যা আট লাখ চার হাজার ৩৩৩ জন।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, ৩০০ আসনে মোট দুই হাজার ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে জামায়াতে ইসলামীর এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে।
নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি, ২৮৮ জন। নিবন্ধিত নয়টি রাজনৈতিক দল এবার কোনো প্রার্থী দেয়নি। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী আড়াই শতাধিক বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
সারা দেশে ৩০০ সংসদীয় আসনে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এসব কেন্দ্রে মোট ভোটকক্ষের সংখ্যা দুই লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি।
ঢাকা-১২ আসনে সবচেয়ে বেশি ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আর সবচেয়ে কম প্রার্থী রয়েছে পিরোজপুর-১ আসনে, যেখানে মাত্র দুইজন প্রার্থী রয়েছেন।
নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে প্রায় আট লাখ কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন। পাশাপাশি প্রায় নয় লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নির্বাচন ও গণভোটে নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করবেন।
পর্যবেক্ষক প্রসঙ্গে ইসি জানায়, ৮১টি দেশীয় নিবন্ধিত সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে ৭ হাজার ৯৯৭ জন কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এবং ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন স্থানীয় পর্যায়ে পর্যবেক্ষণে থাকবেন। পাশাপাশি প্রায় ৫০০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষকও নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

