AB Bank
  • ঢাকা
  • বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন চার শতাধিক প্রার্থী


Ekushey Sangbad
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৯:৪৫ এএম, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬

আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন চার শতাধিক প্রার্থী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করে চার শতাধিক প্রার্থী আবারও ভোটের মাঠে ফিরেছেন। টানা নয় দিনের শুনানি শেষে রোববার (১৮ জানুয়ারি) এ প্রক্রিয়া শেষ হয়।

ইসি সূত্র জানায়, আপিল করা প্রার্থীদের মধ্যে ৬৫ শতাংশের বেশি প্রার্থী কমিশনের সিদ্ধান্তে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। ফলে আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ আরও বিস্তৃত হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে উল্টো চিত্রও রয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা যাদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছিলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের আপিলের পর তাদের মধ্য থেকে বিএনপির চারজনের মনোনয়ন বাতিল করেছে কমিশন। তারা হলেন— কুমিল্লা-৪ আসনের মঞ্জুরুল আহসান মুন্সি, কুমিল্লা-১০ আসনের আবদুল গফুর ভূঁইয়া, চট্টগ্রাম-২ আসনের সরওয়ার আলমগীর এবং যশোর-৪ আসনের তালহা শাহরিয়ার (টিএস) আইয়ুব।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে রোববার অনুষ্ঠিত হয় নবম ও শেষ দিনের আপিল শুনানি। ইসির জনসংযোগ শাখার পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক জানান, শেষ দিনে মোট ৬৩টি আপিল আবেদনের শুনানি হয়।

এর মধ্যে মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে করা ২১টি এবং মনোনয়ন গ্রহণের বিরুদ্ধে করা দুটি আপিল মঞ্জুর করা হয়। বিপরীতে ৩৫টি আপিল নামঞ্জুর করা হয়েছে। এছাড়া তিনটি আপিল প্রত্যাহার করা হয় এবং দুটি আবেদন পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। এক আপিলকারী শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন না।

ইসির তথ্য অনুযায়ী, ১০ জানুয়ারি শুরু হওয়া আপিল শুনানিতে প্রতিদিনই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী প্রার্থিতা ফিরে পান। প্রথম দিন ৫১ জন, দ্বিতীয় দিন ৫৮ জন, তৃতীয় দিন ৪১ জন, চতুর্থ দিন ৪৪ জন, পঞ্চম দিন ৭৩ জন, ষষ্ঠ দিন ৩৩ জন, সপ্তম দিন ৬০ জন, অষ্টম দিন ৪৪ জন এবং শেষ দিনে ২১ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।

শেষ দিনের শুনানিতে ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়গুলো বেশি গুরুত্ব পায়। দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে করা ২৩টি আপিলের মধ্যে ২০ জনের ক্ষেত্রে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বাধা দূর হয়। দুজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয় এবং একজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়।

শুনানিতে অনুপস্থিত থাকায় কুমিল্লা-১০ আসনের বিএনপি প্রার্থী আবদুল গফুর ভূঁইয়ার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। অন্যদিকে, কুমিল্লা-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জেল হোসেন কায়কোবাদের তুরস্কের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয় যাচাই চলায় তার প্রার্থিতা বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।

দ্বৈত নাগরিকত্বসহ অন্যান্য জটিলতা নিরসনের পর বিভিন্ন দলের একাধিক প্রার্থী এখন নির্বিঘ্নে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা— যারা ঢাকা, চট্টগ্রাম, দিনাজপুর, সাতক্ষীরা, ফরিদপুর, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, নোয়াখালী, রংপুর, নাটোর, যশোর, শেরপুর, কুড়িগ্রাম ও মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

তবে ঋণখেলাপির অভিযোগে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের মনোনয়ন শেষ পর্যন্ত বাতিল বহাল রাখা হয়েছে।

আপিল শুনানি শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, প্রার্থিতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে কমিশন কোনো পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত নেয়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সব দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সিইসি বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর বিষয়ে কমিশন নমনীয়তা দেখিয়েছে, যাতে নির্বাচন আরও অংশগ্রহণমূলক হয়। তিনি এ কাজে গণমাধ্যমের সহযোগিতার জন্য সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান।

এ সময় নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ঋণখেলাপি সংক্রান্ত কিছু ক্ষেত্রে আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে, যদিও তা কমিশনের জন্য সহজ ছিল না।

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

Link copied!