আপিল শুনানির পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
রোববার সন্ধ্যায় টানা নয় দিনের আপিল শুনানি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন কারও প্রতি পক্ষপাত না দেখিয়ে আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সিইসি জানান, “নয় দিনব্যাপী আপিল শুনানি শেষ হয়েছে। আমরা একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে চাই। ভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। কোনো পক্ষকে সুবিধা দিতে গিয়ে নির্বাচন কমিশন রায় দেয়নি।”
এ সময় নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, আইনের বাধ্যবাধকতার কারণে কিছু ক্ষেত্রে ঋণখেলাপি প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ রাখতে হয়েছে, যা অনেক সময় কষ্টের হলেও করতে হয়েছে।
আপিল শুনানির শেষ দিনে বিএনপির আরও দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে কুমিল্লা–১০ আসনের প্রার্থী আবদুল গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এছাড়া হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ থাকায় চট্টগ্রাম–২ আসনের বিএনপি প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নও বাতিল করা হয়েছে। এর আগে ঋণখেলাপির অভিযোগে কুমিল্লা–৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়ন বাতিল করে ইসি।
তবে চট্টগ্রাম–৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীর ক্ষেত্রে স্বস্তির সিদ্ধান্ত এসেছে। তাঁর মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করে কমিশন প্রার্থিতা বহাল রেখেছে। পাশাপাশি টাঙ্গাইল–৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী লতিফ সিদ্দিকীর মনোনয়নের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিলও খারিজ করা হয়েছে। ফলে তাঁর নির্বাচনে অংশ নিতে আর কোনো আইনগত বাধা থাকছে না।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল শুনানির শেষ দিনে মোট ৬৫টি আবেদনের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করেছে নির্বাচন কমিশন। এবারের নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বাতিল করা ৭২৩টি মনোনয়নের বিরুদ্ধে মোট ৬৪৫টি আপিল জমা পড়ে। এর মধ্যে ৪১০ জন প্রার্থী প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন, ২০০টি আবেদন বাতিল হয়েছে এবং ৩০টি আবেদন এখনো স্থগিত রয়েছে।
নির্বাচন তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ২১ জানুয়ারি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

