প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে অংশ নেওয়া কুরাসাও ইতিহাস গড়েছে ইকুয়েডরের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে। কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ক্যারিবীয় দ্বীপদেশটির নায়ক ছিলেন গোলরক্ষক এলয় রুম, যিনি একাই গড়ে ফেলেছেন বিশ্বকাপের নতুন রেকর্ড।
ম্যাচজুড়ে আক্রমণে আধিপত্য ছিল ইকুয়েডরের। তবে কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগের শেষ প্রহরী এলয় রুম দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে প্রতিপক্ষের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন। ৩৭ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক ১৫টি শট ঠেকিয়ে বিশ্বকাপের ৯০ মিনিটের ম্যাচে সর্বোচ্চ সেভের নতুন রেকর্ড গড়েছেন।
ফিফার সংরক্ষিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৬৬ সালের পর থেকে অতিরিক্ত সময় ছাড়া কোনো বিশ্বকাপ ম্যাচে এত বেশি সেভ করার নজির নেই। সব ধরনের বিশ্বকাপ ম্যাচ বিবেচনায় এক ম্যাচে সর্বোচ্চ সেভের রেকর্ড এখনও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক গোলরক্ষক টিম হাওয়ার্ডের দখলে। তিনি ২০১৪ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ১৬টি সেভ করেছিলেন। সেই রেকর্ড থেকে মাত্র একটি সেভ দূরে থেমেছেন রুম।
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলকে হারিয়ে আলোচনায় আসা ইকুয়েডর ম্যাচের শুরু থেকেই গোলের জন্য মরিয়া ছিল। প্রথম মিনিটেই বড় সুযোগ পান অধিনায়ক এননার ভ্যালেন্সিয়া। কিন্তু একান্ত সুযোগেও কুরাসাও গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে পারেননি তিনি।
এরপর পুরো ম্যাচে ভ্যালেন্সিয়া, মোইসেস কাইসেদোসহ ইকুয়েডরের আক্রমণভাগ বারবার সুযোগ তৈরি করলেও রুমের অসাধারণ সেভের সামনে ব্যর্থ হয়। অন্যদিকে কুরাসাওও কয়েকটি আক্রমণ গড়েছিল, তবে শেষ মুহূর্তে কার্যকর ফিনিশিংয়ের অভাবে গোলের দেখা পায়নি।
প্রথম ম্যাচে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে হারের পর অনেকেই কুরাসাওকে নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। কিন্তু শক্তিশালী ইকুয়েডরকে রুখে দিয়ে তারা নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। ড্রয়ের ফলে দুই দলই একটি করে পয়েন্ট পেয়েছে এবং নকআউট পর্বে ওঠার আশা এখনও বেঁচে রয়েছে।
তবে গোল ব্যবধানের কারণে কুরাসাও কিছুটা পিছিয়ে আছে। তারপরও ইকুয়েডরের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে অর্জিত এই ড্র এবং এলয় রুমের রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স বিশ্বকাপ ইতিহাসে কুরাসাওয়ের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

