যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে বিবেচনা করছেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য অবজারভার-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী সোমবার তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের সম্ভাব্য সময়সূচিও তুলে ধরতে পারেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে মন্ত্রিসভার সদস্য, লেবার পার্টির নেতৃবৃন্দ, ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধি এবং দলের দাতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার পর স্টারমার উপলব্ধি করেছেন যে, তার জন্য দলীয় নেতৃত্ব ধরে রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানাননি তিনি। জানা গেছে, সপ্তাহান্তে স্ত্রী ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন স্টারমার। যদিও লেবার পার্টির অনেক নেতার ধারণা, সোমবারই তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারেন।
এদিকে সাম্প্রতিক একটি উপনির্বাচনে সাফল্যের পর সাবেক মন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের জনপ্রিয়তা দলীয় অঙ্গনে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তার সমর্থকদের দাবি, লেবার পার্টির ৪০০-এর বেশি সংসদ সদস্যের মধ্যে ২০১ জনেরও বেশি এমপি বর্তমানে বার্নহ্যামের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
দলের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা মনে করছেন, আগামী নির্বাচনের আগে লেবার পার্টিকে নতুন নেতৃত্বের অধীনে পুনর্গঠন করা প্রয়োজন। তাদের মতে, বার্নহ্যাম বর্তমানে নেতৃত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
তবে স্টারমারের কার্যালয় এ ধরনের খবরকে এখনো ‘জল্পনা’ বলে উল্লেখ করেছে। কয়েক দিন আগেও প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, তিনি নেতৃত্বে থাকতে চান এবং সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখনও বাকি রয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের অন্যতম বৃহৎ শ্রমিক সংগঠন ইউনাইটের মহাসচিব শ্যারন গ্রাহাম প্রকাশ্যে নেতৃত্ব পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছেন। তার মতে, দলীয় স্বার্থে স্টারমারের সরে দাঁড়িয়ে একটি সুশৃঙ্খল নেতৃত্ব পরিবর্তনের পথ তৈরি করা উচিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ব্রিটিশ রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলতে পারে। তবে কিয়ার স্টারমার শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেন, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

