শহীদ শরিফ ওসমান হাদির খুনিরা কীভাবে দিনের আলোতে গুলি করে সীমান্ত অতিক্রম করার সুযোগ পেল, সেই প্রশ্ন তুলে ভাই হত্যার দ্রুত ও প্রকাশ্য বিচার দাবি করেছেন তার বড় ভাই ড. মাওলানা আবু বকর ছিদ্দিক। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজার নামাজের ঠিক আগে উপস্থিত লাখো মানুষের সামনে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি এই দাবি জানান।
জানাজার ইমামতি করার আগে মাওলানা আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, “হত্যাকাণ্ডের সাত-আট দিন পার হয়ে গেল। দিনের আলোতে গুলি করে খুনিরা যদি পার পেয়ে যায়, তবে এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু নেই। ৫ থেকে ৭ ঘণ্টার মধ্যে তারা কীভাবে বর্ডার ক্রস করে চলে গেল? এই প্রশ্ন আমি জাতির কাছে রেখে গেলাম।”
তিনি আরও বলেন, “আমার কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। আমার ভাই শহীদ হওয়ার তামান্না নিয়ে কাজ করত, আল্লাহ হয়তো তাকে শাহাদাত নসিব করেছেন। কিন্তু আপনাদের কাছে আমি এই ঋণ ছাড়ব না—আমি বাংলার জমিনে আমার ভাই হত্যার বিচার প্রকাশ্যে দেখতে চাই। এতদিন হয়ে গেল কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা কিছুই করতে পারলাম না, এই দুঃখে কলিজা ফেটে যাচ্ছে।”
পরিবারের সদস্যদের কথা উল্লেখ করে ড. আবু বকর বলেন, “শরিফ ওসমান হাদি ছিল আমাদের ছয় ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট। তার ছোট সন্তানের চেহারার দিকে তাকানো যাচ্ছে না। আমার মা প্রায় পাগল হয়ে গেছেন, বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। আমার ভাই এদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার যে বার্তা দিয়ে গেছে, আল্লাহ যেন তা রক্ষা করার তৌফিক দেন।”
তিনি উল্লেখ করেন, হাদি তার জীবন দিয়ে এদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব কীভাবে রক্ষা করতে হয়, সেই মেসেজ দিয়ে গেছে। বক্তব্য শেষে তার ইমামতিতেই শহীদ হাদির ঐতিহাসিক জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

