দেশের বিভিন্ন থানা ও নিরাপত্তা স্থাপনা থেকে লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদের বড় অংশ এখনো উদ্ধার না হওয়ায় জাতীয় নির্বাচনের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংক্রান্ত পরবর্তী সব কার্যক্রম স্থগিতের দাবি জানিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কাছে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) রেজিস্ট্রি ডাক ও ই-মেইলের মাধ্যমে জনস্বার্থে এই নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান।
নোটিশে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং র্যাবের মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট দায়ের করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে আইনজীবী মাহমুদুল হাসান জানান, জুলাই সনদের ওপর গণভোট আয়োজনের ক্ষেত্রে কোনো আইনগত বাধা নেই। তবে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ফ্যাসিবাদ পতনের মধ্য দিয়ে দেশে যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে, তা এখনো কাটেনি। বিশেষ করে বিপ্লব-পরবর্তী অস্থির সময়ে বিভিন্ন থানা ও নিরাপত্তা স্থাপনা থেকে বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হয়, যার বড় অংশ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অবৈধ অস্ত্র সন্ত্রাসী ও অপরাধী চক্রের হাতে থাকায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ভোটার ও প্রার্থীদের জীবনের নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে নির্বাচনি সহিংসতার আলামত দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। এই প্রেক্ষাপটেই জনস্বার্থে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচন কমিশন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একসঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় নির্বাচনের পরিবেশ কার্যত অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। উদাহরণ হিসেবে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর ১২ ডিসেম্বর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার কথা তুলে ধরা হয়। নোটিশে বলা হয়, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের আগেই নির্বাচন আয়োজন করা হলে তা প্রার্থীদের জীবননাশের ঝুঁকি তৈরি করবে এবং সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত নাগরিকের জীবনের অধিকার লঙ্ঘিত হবে।
নোটিশে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচনের মধ্যে মৌলিক পার্থক্যও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, গণভোট একটি জাতীয় ঐকমত্য ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রক্রিয়া, যেখানে সহিংস প্রতিযোগিতার আশঙ্কা নেই। বিপরীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। ফলে অবৈধ অস্ত্রের হুমকির মধ্যে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হতে পারে।
এই অবস্থায় লিগ্যাল নোটিশে দাবি জানানো হয়—আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সময়েই জুলাই সনদের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হোক, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক সব লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার এবং নিরাপদ নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত রাখা হোক।
নোটিশে আরও বলা হয়, সাত দিনের মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়নে উদ্যোগ না নেওয়া হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি স্থগিত চেয়ে করা একটি রিট আবেদন হাইকোর্ট খারিজ করেছিলেন। গত ৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ কংগ্রেসের পক্ষে দলটির মহাসচিব আইনজীবী মো. ইয়ারুল ইসলাম ওই আবেদন করেন। পরে বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি রাজিউদ্দিন আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেন।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

