যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট-এ ব্যাপক আকারে জনবল ছাঁটাই করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৮০০ জন সাংবাদিকের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশের বেশি, অর্থাৎ ৩০০ জনেরও বেশি কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। ২০১৩ সালে আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস পত্রিকাটির মালিকানা নেওয়ার পর এটিই সবচেয়ে বড় ছাঁটাই হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্থানীয় সময় বুধবার অনেক কর্মীকে কাজ না করে বাসায় থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ব্যবসায়িক বিভাগসহ মোট কর্মীর প্রায় ৩০ শতাংশকে ছাঁটাই করা হয়েছে।
এই ছাঁটাইয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক ডেস্ক ও স্পোর্টস ডেস্ক। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকা কাভার করা একাধিক অভিজ্ঞ সাংবাদিক ও সম্পাদককে একযোগে বিদায় নিতে হয়েছে।
দীর্ঘ ১২ বছর ওয়াশিংটন পোস্টে কর্মরত থাকা সাংবাদিক ঈশান থারুরও ছাঁটাইয়ের তালিকায় রয়েছেন। ভারতের কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের ছেলে ঈশান নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। একটি ফাঁকা নিউজরুমের ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘আজকের দিনটা সত্যিই খুব খারাপ।’ অন্য একটি পোস্টে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বিভাগের বড় অংশের কর্মীদেরই ছাঁটাই করা হয়েছে, যা তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।
এছাড়া ওয়াশিংটন পোস্টের দিল্লি ব্যুরো প্রধান প্রাণশু বর্মাকেও চাকরি হারাতে হয়েছে। তিনি গত চার বছর ধরে পত্রিকাটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী সম্পাদক ম্যাট মারে এই সিদ্ধান্তকে ‘অত্যন্ত কঠিন’ আখ্যা দিলেও বলেন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ও পাঠকদের অভ্যাসে পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে এমন পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিনের আর্থিক চাপ ও লোকসান সামাল দিতেই একসঙ্গে এত বড় পরিসরে কর্মী ছাঁটাই করেছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, এই গণছাঁটাইয়ের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট গিল্ড। তাদের ভাষ্য, একটি সংবাদমাধ্যমে একবারে এত বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক ছাঁটাই যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম ইতিহাসে খুবই বিরল এবং এটি সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

