বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত পানি পান করলে শরীরে থাকা সোডিয়ামের মাত্রা কমে যেতে পারে। শরীরের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদানগুলোর মধ্যে সোডিয়াম অন্যতম, যা স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কাজের জন্য প্রয়োজন।
যখন শরীরে অতিরিক্ত পানি জমে, তখন সোডিয়াম পাতলা হয়ে যায় এবং প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে যেতে থাকে। এতে শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
কোন শাক কেন খাবেন, জানুন মহৌষধি গুণ
কী কী সমস্যা দেখা দিতে পারে?
অতিরিক্ত পানি পান করলে কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন—
বমিভাব
অতিরিক্ত ক্লান্তি
মাথাব্যথা
পেশিতে খিঁচুনি
দুর্বলতা অনুভব করা
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বেশি হতে পারে।
১. যারা নিয়মিত খেলাধুলা বা শরীরচর্চা করেন
২. যারা তেষ্টা না পেলেও বারবার পানি পান করেন
৩. যারা প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক গ্লাস পানি পান করার লক্ষ্য ঠিক করেন
৪. যারা অফিসে বা কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিয়ম মেনে পানি পান করেন
চিকিৎসকদের ভাষ্য, শরীর সাধারণত নিজেই পানির প্রয়োজনের সংকেত দেয়। তেষ্টা পাওয়া সেই সংকেতগুলোর অন্যতম। তাই শরীরের চাহিদা না বুঝে শুধু অভ্যাস বা ধারণার বশে অতিরিক্ত পানি পান করা ঠিক নয়।
দিনে কতটা পানি প্রয়োজন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে সাধারণত ৩ থেকে ৪ লিটার পানি প্রয়োজন হতে পারে। তবে এটি সবার জন্য এক নয়।
কতটা পানি প্রয়োজন হবে, তা নির্ভর করে বয়স, ওজন, উচ্চতা, আবহাওয়া, দৈনন্দিন কাজকর্ম এবং খাদ্যাভ্যাসের ওপর। কেউ যদি ফল, শরবত বা অন্যান্য তরল খাবার বেশি খান, তাহলে অতিরিক্ত পানি পান করার প্রয়োজন নাও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্থ থাকার জন্য পানি অবশ্যই প্রয়োজন। তবে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পানি পান করাও শরীরের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই শরীরের চাহিদা বুঝে পরিমিত পানি পান করাই সবচেয়ে নিরাপদ অভ্যাস।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

