ঢাকা শুক্রবার, ০৬ আগস্ট, ২০২১, ২২ শ্রাবণ ১৪২৮

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
Janata Bank
Rupalibank

কচু শাকের পুষ্টিগুন ও উপকারিতা 


Ekushey Sangbad
একুশে সংবাদ ডেস্ক
১২:৫৮ পিএম, ১৯ জুলাই, ২০২১
কচু শাকের পুষ্টিগুন ও উপকারিতা 

কচু শাকের উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ প্রচুর।কচুশাকের পুষ্টিগুণ বেশি থাকায় এর চাহিদা ব্যপক। আমাদের অতি পরিচিত একটি শাক, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে কচুশাক খুবই জনপ্রিয়। এটি আমাদের বাড়ির উঠোনের কোণে, ধানের ক্ষেতের আইলে, বিলের ধারে যেখানে সেখানে বিনা যত্নে জন্মে বলে কচুশাক সহজেই পাওয়া যায়। কচুশাকে রয়েছে উচ্চমাত্রায় পটাশিয়াম, তাই হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমায়।আমাদের শরীরে রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে গেলে সব ডাক্তাররাই কচু শাক খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এই শাকে ভিটামিন এ-এর পাশাপাশি এতে রয়েছে ভিটামিন বি এবং সি-ও। এছাড়া কচুশাক আয়রনসমৃদ্ধ বলে এর সমাদর অনেক বেশি। এইশাক ভিটামিন এ-এর খুব ভালো উত্‍স, রাতাকানা রোগসহ ভিটামিন এ-এর অভাবে হওয়া সকল ধরনের রোগ প্রতিরোধে কচুশাক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।এই কচু শাকই দৈনন্দিন পুষ্টি চাহিদার অনেকখানি পূরণ করতে পারে।

কচু শাকের উপকারিতা

কচু শাকের উপকারিতা অনেক।কচুশাক নানা ভাবে খাওয়া হয়। তবে কচুপাতা ভর্তা ও তরকারিতে বেশি জনপ্রিয়। বাংলাদেশের মানুষের কাছে ইলিশ, চিংড়ি, ছোট মাছ বা শুটকি মাছ দিয়ে কচু শাকের তরকারি খুবই জনপ্রিয়। নিচে কচু শাকের উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা কা হল-

ক) এই শাকের সব চেয়ে বড় উপকারিতা হল এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ম্যাংগানিজ, ম্যাগনেসিয়াম, ও ফসফরাস। আমাদের দাঁত ও হাড়ের গঠনে কচুশাকের তুলনা হয়না।তাছাড়া ক্ষয়রোগ প্রতিরোধে কচু শাকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত কচু শাক খেলে দাঁত ও হাড় ভালো থাকবে।

খ) কচু শাকে প্রর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন থাকে ।এই আয়রন আমাদের রক্তশূন্যতা ভোগা থেকে রক্ষা করে। তাই রক্তশূন্যতায় ভোগা রোগীদের জন্য কচুশাক খাওয়া অবশ্যই দরকার।

গ)কচু শাকে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ থাকে যা খাবারকে অতি সহজে হজম করতে সাহায্য করে। যেসব রোগীদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা আছে, তাঁরা নিয়মিত কচুশাক খেতে পারেন।এতে আপনাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হবে।

ঘ) কচুশাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে। ফলে এর লৌহ উপাদান আপনার দেহে সহজে আত্তীকরণ হয়ে যায়। ভিটামিন সি আমাদের শরীরের ক্ষত সারাতে সাহায্য করে। তাই শিশুদের ছোট বেলা থেকেই কচু শাক খাওয়ানো প্রত্যেকের উচিত।

ঙ) কচুশাকে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ থাকে। এটি আমাদের রাতকানা, ছানি পড়াসহ চোখের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধসহ দৃষ্টিশক্তি বাড়িয়ে দেয়। রাত কানা রোগ সারাতে কচু শাকের তুলনা হয় না।

চ)কচুশাক খেলে রক্তের কোলেস্টরেল কমে তাই উচ্চরক্ত চাপের রোগীদের জন্য কচুশাক এবং কচু বেশ উপকারী। নিয়মিত কচুশাক খেলে কোলন ক্যান্সার ও ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকিও দিন দিন কমে।

ছ) কচু শাকে বিদ্যমান বিভিন্ন রকমের ভিটামিন ও খনিজ উপাদান গর্ভবর্তী মা ও শিশুর জন্য অনেক উপকারী। কচু শাক আমাদের কাছে সহজ লভ্য তাই দরিদ্র পরিবারের গর্ভবতী মহিলারা ভিটামিন ও আয়রনের চাহিদা পূরণের জন্য কচু বা কচুশাক খেতে পারেন।

জ) আমাদের শরীরে অক্সিজেনের সরবরাহ সচল রাখতে কচু শাক বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এই শাকের আয়রন ও ফোলেট রক্তের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। এর ফলে অক্সিজেন সংবহন পর্যাপ্ত থাকে। এতে উপস্থিত ভিটামিন কে রক্তপাতের সমস্যা প্রতিরোধ করে থাকে।

কচুশাকের পুষ্টিগুণ

কচুশাকের পুষ্টিগুণ প্রচুর পরিমানে রয়েছে। কচুশাকের পুষ্টি উপাদান বেশি থাকায় সব ধরনের মানুষ খেতে পারে। এই শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান সমূহ। নিচে কচুশাকের পুষ্টি উপাদান আলোচনা করা হল-
প্রতি ১০০ গ্রাম কচুশাকে থাকে
শর্করা-৬.৮ গ্রাম
প্রোটিন- ৩.৯ গ্রাম
লৌহ-১০ মিলিগ্রাম
ভিটামিন বি-১ (থায়ামিন)-০.২২ মিলিগ্রাম
ভিটামিন বি-২ (রাইবোফ্লেবিন)-০.২৬ মিলিগ্রাম
ভিটামিন ‘সি’-১২ মিলিগ্রাম
স্নেহ বা চর্বি-১.৫ গ্রাম
ক্যালসিয়াম- ২২৭ মিলিগ্রাম
খাদ্যশক্তি-৫৬ কিলোক্যালরি

কচুশাকের অপকারিতা

কচুশাকের অপকারিতা সামান্য পরিমানে রয়েছে। কচু শাক বা কচু খেলে অনেক সময় গলা চুলকায় কারন এতে অক্সলেট নামক উপাদান রয়েছে। এই জন্য কচু রান্না করার সময় লেবুর রস বা সিরকা ব্যবহার করা উচিত। তবে যাদের শরীরে অ্যালার্জির সমস্যা বেশি আছে তাদের কচু বা কচুশাক না খাওয়াই ভালো।কচুশাকের অপকারিতা এর মধ্যে আর একটি অন্যতম গ্যাসট্রিকের সমস্যা হতে পারে।


একুশে সংবাদ/বর্না