মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সংঘাত তীব্র হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে, যার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক তেলের বাজারে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা ১৮ মিনিট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল ১ দশমিক ০৫ ডলার বা প্রায় ১ দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়ে ৮৫ দশমিক ২৮ ডলারে পৌঁছায়।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ০৩ ডলার বা ১ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৯ দশমিক ৯৮ ডলারে ওঠে।
বাজার বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামই প্রায় ১২ শতাংশ বেড়েছে। এতে ব্রেন্ট টানা তৃতীয় এবং ডব্লিউটিআই টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ দেখা দেওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
ওয়াশিংটনে এক অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল বলেন, বিশ্ব জ্বালানি নিরাপত্তা এখনও অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
এদিকে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একাধিক সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে নতুন হামলা হলে তেহরান ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীকে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চাপ বাড়ানোর নির্দেশ দিতে পারে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষের নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান আইজি জানিয়েছে, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ অনুযায়ী ডব্লিউটিআই ক্রুডের মূল্য যদি বর্তমান সমর্থন স্তরের ওপরে স্থিতিশীল থাকে, তাহলে নিকট ভবিষ্যতে তা ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের মধ্যবর্তী স্তরের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যেই ধারাবাহিকভাবে বিমান হামলা চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে, ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে আরও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

