মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পরিচালিত এ হামলায় একটি বিমানবন্দর, একটি রেলস্টেশন এবং দুটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, হরমোজগান প্রদেশে একটি সেতুতে হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য এলাকায় পৃথক হামলায় আরও দুইজনের মৃত্যু এবং কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যেই সর্বশেষ এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে টানা ষষ্ঠ রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে ইরানের পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য পরিচিত বুশেহর এলাকায়ও দুটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ এসব ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সামরিক আগ্রাসনের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। আইআরজিসির ভাষ্য, আহভাজ শহরের একটি শিশু ক্যান্সার হাসপাতালের নিকটে মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই পাল্টা আঘাত হানা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানায়, আহভাজে একাধিক বিস্ফোরণে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট হাসপাতালটি আগেই খালি করে ফেলা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
সংঘাতের প্রভাব পড়েছে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলেও। কুয়েত জানিয়েছে, সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। একই সময়ে বাহরাইনেও বিমান হামলার সতর্ক সংকেত বাজানো হয়েছে।
ইরানের সামরিক নেতৃত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে তারা কোনো আপস করবে না। তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ আরও জোরদার করেছে। ওমান সাগরে একটি জাহাজে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি অবরোধ অমান্য করার অভিযোগে কয়েকটি জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ইরান যদি পূর্ববর্তী সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘন করে, তবে তার জবাবদিহি করতে হবে। তিনি জানান, কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ এখনও থাকলেও হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে যুক্তরাষ্ট্র তা মেনে নেবে না।
সূত্র: এনডিটিভি
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

