AB Bank
  • ঢাকা
  • রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা করতে ইরানের ‘সিক্রেট সেল’


Ekushey Sangbad
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৯:৩৮ পিএম, ১৯ জুন, ২০২৬

উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা করতে ইরানের ‘সিক্রেট সেল’

ইরাকে গোপনে নতুন কিছু সেল গঠন করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন বাহিনীর অবস্থানের ওপর হামলা চালানোর জন্য এই সেলগুলো গঠন করা হয়েছে। ইরাকের পরিচিত মিলিশিয়া নেটওয়ার্ককে পাশ কাটিয়ে এসব সেল চালানো হচ্ছে, যাতে তাদের কার্যক্রম শনাক্ত করা কঠিন হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে অন্তত আটটি ইরাকি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইরাকি গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আইআরজিসির সরাসরি নিয়ন্ত্রণে থাকা এমন তিন থেকে চারটি গোপন সেল ইতিমধ্যে তাদের মিশন শুরু করে দিয়েছে। প্রতিটি সেলে ১০ জন করে অত্যন্ত দক্ষ ও বাছাই করা ইরাকি শিয়া মুসলিম যোদ্ধা রয়েছেন।

গত ২০ এপ্রিল থেকে ১৭ মের মধ্যে এই গোপন সেলগুলো ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় বসরা ও সামাওয়া শহরের মরুভূমি এলাকা থেকে কুয়েত, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে অন্তত সাতটি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং দেশটির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি সামরিক টার্মিনাল লক্ষ্য করে তিনটি হামলা চালানো হয়।

অন্যদিকে, সৌদি আরব ও আমিরাতে চালানো অন্য চারটি ড্রোন মাঝ আকাশেই প্রতিহত করা হয়েছে। এ ছাড়া গত ১৭ মে আমিরাতের বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে লাগা রহস্যময় আগুনের পেছনেও এই সেলের ড্রোন হামলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে ইরাক সরকার।

ইরাকি মিলিশিয়া কমান্ডার ও সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আইআরজিসির এই নতুন রণকৌশলের পেছনে সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কারণ রয়েছে।

প্রথমত, আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য রক্ষা। গত কয়েক বছরে গাজায় হামাস, লেবাননে হিজবুল্লাহর চরম বিপর্যয় এবং ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের ফলে ইরাকি মিলিশিয়াদের প্রধান অস্ত্র সরবরাহ রুট বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে চতুর্মুখী সংকটে থাকা ইরান এখন বিশাল সেনাবহরের পরিবর্তে ছোট, চরম আদর্শবাদী ও কম খরচে পরিচালনাযোগ্য ক্যাডারভিত্তিক দল তৈরিতে বাধ্য হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা। ইরাকের মূলধারার ইরানপন্থী মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর ওপর থেকে মার্কিন চাপ কমাতে এবং তেহরানের ওপর যাতে সরাসরি দায় না আসে, সে জন্যই এই ছদ্মনামধারী ও লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা সেলগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে।

তৃতীয়ত, মূল দলগুলোর রাজনীতিতে ফেরার তাগিদ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটলেও ইরাকের বড় শিয়া দলগুলো (যেমন, আসায়েব আহল আল-হক ও ইমাম আলি ব্রিগেডস) মার্কিন সামরিক হামলা এড়াতে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে মনোযোগ দিতে ইতিমধ্যে সরকারের কাছে অস্ত্র সমর্পণের ঘোষণা দিয়েছে। মিলিশিয়াদের এই রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষাই ইরানকে সরাসরি নিজেদের অধীনে পকেট টিম গঠনে বাধ্য করেছে।

গত বুধবার রাতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে একটি ঐতিহাসিক অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও তাতে আঞ্চলিক সশস্ত্র মিলিশিয়া বা প্রক্সি গ্রুপগুলোর বিষয়ে কোনো সমাধান আসেনি। ইরানি কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের কথিত ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ বা মিলিশিয়াদের প্রতি তেহরানের রাজনৈতিক ও সামরিক সমর্থন কোনও আলোচনার বিষয়বস্তু নয়।

এদিকে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এই ঘটনার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, ইরাকের মাটি থেকে আইআরজিসিসহ ইরানপন্থী সব সন্ত্রাসী মিলিশিয়া ও তাদের অস্থিতিশীল করার সমস্ত সরঞ্জাম অবিলম্বে উপড়ে ফেলতে হবে।

 

একুশে সংবাদ/ওজি

Link copied!