লেবাননে ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে রাজধানী বৈরুতসহ বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিক হামলায় বহু হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অল্প সময়ের মধ্যে শতাধিক বিমান হামলা চালানো হয়েছে, যাতে নারী ও শিশুসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। হাসপাতালগুলোতে আহতদের চাপ বাড়ছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
এই পরিস্থিতির জেরে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে—এমন দাবি করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় ঘনিষ্ঠ কিছু গণমাধ্যম। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক নিশ্চিতকরণ এখনো পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার খবর সামনে আসে। এর পরপরই লেবাননে এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার এ হামলাকে ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এদিকে ইরানের ভেতরেও নিরাপত্তা উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বুধবার দেশটির ইসফাহান ও কেরমান শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। পরবর্তীতে সেসব এলাকায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়। তেহরানের পক্ষ থেকে এসব ঘটনাকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু স্বীকার করেনি।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি থাকলেও হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে, দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ এই পরিস্থিতিকে ‘কূটনৈতিক ব্যর্থতা’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার অভিযোগ, চলমান অভিযানে সরকার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।
সামগ্রিক পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
একুশে সংবাদ/যাবিদ



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

