যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিহত হওয়ার পর এবার বড় ধরনের সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। দেশটির ইতিহাসে এটিই হতে যাচ্ছে সবচেয়ে বিধ্বংসী হামলা—এমন সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে আইআরজিসির পক্ষ থেকে।
রোববার (১ মার্চ) সকালে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে। এবার সেই হামলার মাত্রা আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিলো তেহরান।
ফার্স নিউজ জানায়, আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে বিধ্বংসী সামরিক অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে।’ বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, খুব শিগগিরই এই অভিযান শুরু হবে এবং এতে দখলদার ভূখণ্ড ও অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
এর আগে রোববার সকালে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম ও ফার্স নিউজ এজেন্সি আলী খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। ফার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার ভোরে তেহরানে নিজ কার্যালয়ে অবস্থানকালে চালানো হামলায় খামেনি নিহত হন। সে সময় তিনি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করছিলেন।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, তেহরানে সর্বোচ্চ নেতার দপ্তরকে সরাসরি লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়। এর আগে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি খামেনির বাসভবনের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করে, যেখানে ভবনটির বড় অংশ ধসে পড়া এবং বিস্ফোরণের চিহ্ন স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতৃত্বের শাসনব্যবস্থা চালু হয়। ওই বিপ্লবের মাধ্যমে রেজা শাহ পাহলভীর রাজতন্ত্রের পতন ঘটে এবং দেশটিতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে ইরান দুজন সর্বোচ্চ নেতা পেয়েছে, যাদের ‘আয়াতুল্লাহ’ উপাধিতে অভিহিত করা হয়। সর্বশেষ নেতা হিসেবে আলী খামেনি একই সঙ্গে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
ইরানের এই ঘোষণার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

