ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপ উপকূলে সোমবার (৮ জুন) ভোরে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৭ জনে দাঁড়িয়েছে।
আহত হয়েছেন আরও চার শতাধিক মানুষ। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সকসারজেন অঞ্চল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে অধিকাংশ মরদেহ। এখনও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ফিলিপাইনের অফিস অব সিভিল ডিফেন্স (ওসিডি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পে অন্তত ৪৫৬ জন আহত হয়েছেন এবং প্রায় ১৭ হাজার ৬০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক বাড়িঘর ধসে পড়ায় ১০ হাজারেরও বেশি বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে সারাঙ্গানি উপকূলের কাছে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর পরপরই একাধিক শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়, যার মধ্যে সবচেয়ে বড়টির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৭। ভূমিকম্পে ভবন, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের খুঁজে বের করতে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ এগোলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল সারঙ্গানি প্রদেশের উপকূল থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে। এর কম্পন মিন্দানাওজুড়ে প্রবলভাবে অনুভূত হয় এবং প্রায় ৪২০ কিলোমিটার দূরে ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের মানাদো শহরেও কাঁপুনি টের পাওয়া যায়।
ভূমিকম্পের পর দক্ষিণ ফিলিপাইন, উত্তর ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ার বোর্নিও দ্বীপের সাবাহ রাজ্যে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। উপকূলীয় বাসিন্দাদের দ্রুত উঁচু স্থানে সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ছয় ঘণ্টার বেশি সময় পর সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।
এর আগে ১২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের আট মাস পর এ দুর্যোগ আঘাত হানল। গত বছর মধ্যাঞ্চলীয় সেবু দ্বীপের উপকূলে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে ৭৯ জন নিহত হন। এর দুই সপ্তাহ পর মিন্দানাওয়ে ৭ দশমিক ৪ মাত্রাসহ আরও দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছিল। সূত্র: ফিলিপাইন নিউজ এজেন্সি।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

