AB Bank
  • ঢাকা
  • শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা জারি


Ekushey Sangbad
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৭:০২ পিএম, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা জারি

ঘূর্ণিঝড় ‘দিতওয়া’র প্রভাবে টানা ভারী বর্ষণ ও ভয়াবহ বন্যায় শ্রীলঙ্কায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানির পর দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছে সরকার। একই সঙ্গে এই মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানা যায়, দিতওয়ার প্রভাবে সৃষ্ট বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১৩২ জনে দাঁড়িয়েছে এবং ১৭৬ জন এখনো নিখোঁজ। পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় শনিবার দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে।

শ্রীলঙ্কার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি) জানায়, বৈরী আবহাওয়ায় ১৫ হাজারেরও বেশি বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে এবং ৭৮ হাজার মানুষকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।

সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী সমন্বিতভাবে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছে। অনুরাধাপুরা জেলায় ২৪ ঘণ্টার অভিযানে এক জার্মান পর্যটকসহ ৬৯ জন আটকা পড়া বাসযাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। হেলিকপ্টার ও নৌকা ব্যবহার করে পরিচালিত এ অভিযান ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

এক যাত্রী সাংবাদিকদের বলেন, নৌবাহিনীর সদস্যরা রশি ধরে চলাচলে সাহায্য করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত নৌকায় করেই তাদের উদ্ধার করা হয়। তিনি জানান, ছাদের অংশ ধসে পড়ায় কয়েকজন পানিতে পড়ে গেলেও দ্রুত তাদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

মধ্যাঞ্চলের বদুল্লা জেলার বহু সড়ক ভেঙে পড়ায় গ্রামগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। মাসপান্না গ্রামের বাসিন্দা সামান কুমারা জানান, খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় বিদ্যুৎ–পানি সরবরাহ বন্ধ, বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে এবং পানি পরিশোধন কেন্দ্রগুলো ডুবে গেছে। অনেক এলাকায় ইন্টারনেটও বিচ্ছিন্ন।

শনিবার দুপুরে ঝড়টি শ্রীলঙ্কার কাছ থেকে সরে গিয়ে ভারতের দিকে অগ্রসর হয়। চেন্নাই বিমানবন্দর ঝড়ের কারণে ৫৪টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া আগামী ৪৮ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর।

শ্রীলঙ্কান সরকার আন্তর্জাতিক সহায়তার জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে। বিদেশে থাকা লঙ্কানদেরকেও আর্থিক সহায়তা পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। ভারত ইতোমধ্যে দুটি বিমানে করে ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে এবং কলম্বোয় অবস্থানরত একটি যুদ্ধজাহাজ থেকে রেশন পাঠিয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং অতিরিক্ত সহায়তা পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০১৭ সালের পর এটিই শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ওই বছর বন্যা ও ভূমিধসে ২০০ জনের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল। আর ২০০৩ সালের জুনে হয়েছিল ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ বন্যা, যাতে নিহত হয় ২৫৪ জন।

এই বিপর্যয় থেকে উত্তরণের জন্য দ্রুত ত্রাণ, পুনর্বাসন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এখন শ্রীলঙ্কার জরুরি প্রয়োজন।

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

Link copied!