আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আজ রোববার (৩১ মে) রাতের আকাশে বিরল জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা ‘ব্লু মুন’ উপভোগ করা যেতে পারে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আকাশে এ দৃশ্য দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মহাকাশবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, ব্লু মুন এমন একটি ঘটনা, যা তুলনামূলকভাবে কম ঘটে। এর আগে ২০২৩ সালের আগস্টে আকাশপ্রেমীরা এ ধরনের দৃশ্য দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন।
ব্লু মুন কী?
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্লু মুন বলতে নীল রঙের চাঁদকে বোঝায় না। সাধারণত একই ইংরেজি মাসে দুটি পূর্ণিমা হলে দ্বিতীয় পূর্ণিমাকে ‘ব্লু মুন’ বলা হয়। চাঁদের আবর্তনচক্রের কারণে নির্দিষ্ট সময় পরপর এ ঘটনা ঘটে।
চাঁদ কি নীল দেখাবে?
নামের সঙ্গে ‘ব্লু’ শব্দটি থাকলেও চাঁদের রঙে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায় না। এটি সাধারণ পূর্ণিমার মতোই সাদা বা রুপালি আভা নিয়ে দেখা যায়। তবে বিশেষ বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতিতে অতীতে কিছু ক্ষেত্রে চাঁদকে নীলাভ দেখার ঘটনা ঘটেছে।
মাইক্রো মুনের বিশেষত্ব
এবারের পূর্ণিমার আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো, এটি ‘মাইক্রো মুন’ হিসেবেও পরিচিত। চাঁদ যখন পৃথিবী থেকে তুলনামূলক বেশি দূরত্বে অবস্থান করে এবং সেই সময় পূর্ণিমা ঘটে, তখন তাকে মাইক্রো মুন বলা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দূরত্ব বেশি থাকায় চাঁদকে সাধারণ পূর্ণিমার তুলনায় কিছুটা ছোট দেখাতে পারে। যদিও খালি চোখে এ পার্থক্য স্পষ্টভাবে বোঝা কঠিন।
বাংলাদেশ থেকে দেখার সুযোগ
বাংলাদেশের আকাশে সন্ধ্যার পর থেকেই পূর্ণ চাঁদ দেখা যাবে। আকাশ পরিষ্কার থাকলে খালি চোখেই এই মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগ করা সম্ভব। এ জন্য কোনো বিশেষ যন্ত্র বা টেলিস্কোপের প্রয়োজন হবে না।
আকাশ পর্যবেক্ষকদের মতে, চাঁদ যখন দিগন্তের কাছাকাছি অবস্থান করবে, তখন বায়ুমণ্ডলীয় প্রভাবে এটি কিছুটা কমলা বা সোনালি আভা ধারণ করতে পারে। পরে ধীরে ধীরে চাঁদ তার স্বাভাবিক উজ্জ্বল সাদা রূপে দেখা যাবে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীদের জন্য আজকের রাতটি হতে পারে আকাশ পর্যবেক্ষণের একটি বিশেষ সুযোগ।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

