AB Bank
  • ঢাকা
  • শনিবার, ০৬ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

গবেষণায় শিশুদের মোবাইল ব্যবহার নিয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য


Ekushey Sangbad
তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
১০:২৪ পিএম, ১৪ মে, ২০২৬

গবেষণায় শিশুদের মোবাইল ব্যবহার নিয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য

রাজধানীর শিশুদের মধ্যে মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)। সংস্থাটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে শিশুদের ঘুমের সমস্যা, মাথাব্যথা, চোখের জটিলতা, স্থূলতা এবং মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ঢাকার ছয়টি স্কুলের ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী ৪২০ জন শিশুর ওপর গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়। অংশ নেওয়া স্কুলগুলোর মধ্যে তিনটি বাংলা মাধ্যম এবং তিনটি ইংরেজি মাধ্যমের ছিল। গবেষণার ফলাফল সম্প্রতি জার্নাল অব মেডিকেল ইন্টারনেট রিসার্চ (জেএমআইআর) হিউম্যান ফ্যাক্টরসে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণায় দেখা যায়, প্রতি পাঁচজন শিশুর মধ্যে চারজন প্রতিদিন দুই ঘণ্টার বেশি সময় মোবাইল, টিভি, ট্যাব বা কম্পিউটার ব্যবহার করে। গড়ে তারা প্রতিদিন প্রায় ৪ দশমিক ৬ ঘণ্টা স্ক্রিনে সময় কাটায়, যা আন্তর্জাতিকভাবে সুপারিশকৃত সীমার চেয়ে অনেক বেশি।

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, এক-তৃতীয়াংশের বেশি শিশু চোখের সমস্যায় ভুগছে এবং প্রায় ৮০ শতাংশ শিশু নিয়মিত মাথাব্যথার অভিযোগ করেছে। এছাড়া যারা বেশি সময় স্ক্রিন ব্যবহার করে, তারা গড়ে মাত্র ৭ দশমিক ৩ ঘণ্টা ঘুমায়, যেখানে এ বয়সী শিশুদের জন্য ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, প্রায় ১৪ শতাংশ শিশু অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতার ঝুঁকিতে রয়েছে এবং অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শিশুদের স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ, শেখার ক্ষমতা, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। গবেষণায় অংশ নেওয়া শিশুদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দুশ্চিন্তা, অতিচঞ্চলতা ও আচরণগত সমস্যার লক্ষণও দেখা গেছে।

গবেষণার প্রধান গবেষক ও আইসিডিডিআর,বি’র অ্যাসিস্ট্যান্ট সায়েন্টিস্ট ডা. শাহরিয়া হাফিজ কাকন বলেন, শিশুদের মধ্যে ঘুমের অনিয়ম, খিটখিটে আচরণ, মনোযোগ কমে যাওয়া বা বাইরের খেলাধুলায় অনীহার মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। এগুলো অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের প্রভাব হতে পারে।

গবেষকরা শিশুদের চোখের সুরক্ষায় ‘২০-২০-২০’ নিয়ম অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন। অর্থাৎ প্রতি ২০ মিনিট স্ক্রিন ব্যবহারের পর ২০ ফুট দূরের কোনো কিছুর দিকে অন্তত ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকা উচিত।

আইসিডিডিআর,বি’র নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ বলেন, ডিজিটাল ডিভাইস এখন দৈনন্দিন জীবনের অংশ হলেও শিশুদের সুস্থ বিকাশের জন্য স্ক্রিন ব্যবহারে সীমা নির্ধারণ জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী, স্কুলগামী শিশুদের বিনোদনমূলক স্ক্রিন টাইম দিনে দুই ঘণ্টার মধ্যে রাখা উচিত।

 

একুশে সংবাদ/যাবিদ

Link copied!