ঢাকা শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১ আশ্বিন ১৪২৮

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
Janata Bank
Rupalibank

আজ জনপ্রিয় শিল্পী কনকচাপাঁর জন্মদিন


Ekushey Sangbad
বিনোদন ডেস্ক
১২:০৩ পিএম, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১
আজ জনপ্রিয় শিল্পী কনকচাপাঁর জন্মদিন

 আজ ১১ সেপ্টেম্বর প্রথিতযশা কণ্ঠশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনক চাঁপার জন্মদিন। ১৯৬৯ সালের এই দিনে জন্ম গ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা আজিজুল হক মোর্শেদ। পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে তৃতীয় কনক চাঁপা। অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়ে তিনি বাংলা গানের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছেন।

চলচ্চিত্র, আধুনিক গান, নজরুল সঙ্গীত, লোকগীতি সহ প্রায় সবধরনের গানে কনক চাঁপা সমান পারদর্শী। তিনি ৩৪ বছর ধরে সংগীতাঙ্গনে কাজ করে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত চলচ্চিত্রের তিন হাজারেরও বেশি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন কনক চাঁপা। প্রকাশিত হয়েছে ৩৫টি একক গানের অ্যালবাম।

গানের পাশাপাশি লেখক হিসেবেও কনকচাঁপার সুখ্যাতি রয়েছে। ২০১০ সালের অমর একুশে বইমেলায় ‘স্থবির যাযাবর’, ২০১২ সালের অমর একুশে বইমেলায় ‘মুখোমুখি যোদ্ধা’ ও ২০১৬ সালের অমর একুশে বইমেলায় ‘মেঘের ডানায় চড়ে’ নামে তিনটি বই প্রকাশিত হয়েছে কনক চাঁপার।

কনকচাঁপা বিখ্যাত কন্ঠশীল্পি বশীর আহমেদের ছাত্রী। দীর্ঘদিন তাঁর কাছে উচ্চাঙ্গ, নজরুল সঙ্গীতসহ অন্যান্য ভারতীয় সঙ্গীতের তালিম নিয়েছেন।

কনক চাঁপার জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে- অনেক সাধনার পরে আমি পেলাম তোমার মন, তোমাকে চাই শুধু তোমাকে চাই, ভাল আছি ভাল থেকো, যে প্রেম স্বর্গ থেকে এসে জীবনে অমর হয়ে রয় (খালিদ হাসান মিলুর সাথে), আমার নাকেরই ফুল বলে রে তুমি যে আমার, তোমায় দেখলে মনে হয়, আকাশ ছুঁয়েছে মাটিকে, অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে, তুমি আমার এমনই একজন উল্লেখযোগ্য।

গানের জন্য রুমানা মোর্শেদ কনক চাঁপা ৩ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়া তিনি বাচসাস চলচ্চিত্র পুরস্কার, দর্শক ফোরাম পুরস্কার, প্রযোজক সমিতি পুরস্কারসহ আরও অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন।
এবার তার জন্মদিন কাটবে যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে তার খালাতো ভাই মোর্শেদ টিটোর বাসায় রয়েছেন। সেখানে তার জন্মদিনকে ঘিরে খোলা মাঠে একটা পিকনিকের মতো আয়োজন করা হয়েছে।  

কনকচাঁপার বেড়ে ওঠা ঢাকাতেই। গানের হাতেখড়ি ছোট বেলায়। বিখ্যাত কন্ঠশিল্পী বশীর আহমেদের ছাত্রী তিনি। দীর্ঘদিন তার কাছে উচ্চাঙ্গ, নজরুল সঙ্গীতসহ অন্যান্য ভারতীয় সঙ্গীতের তালিম নিয়েছেন। মাত্র ৯ বছর বয়সে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘নতুন কুঁড়ি’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেছিলেন তিনি।

দেশের চলচ্চিত্রের গানের ইতিহাসে অন্যতম সেরা গায়িকা কনকচাঁপা। সমৃদ্ধ সংগীত ক্যারিয়ারে শুধু চলচ্চিত্রের গানেই নয়, অডিও গানেও তিনি সমান জনপ্রিয়। আধুনিক, নজরুল সঙ্গীত, লোকগীতিসহ প্রায় সব ধরনের গানে পারদর্শী তিনি।  

তবে দীর্ঘ তিন যুগের ক্যারিয়ারে চলচ্চিত্রেই তিন হাজারের বেশি গান গেয়েছেন তিনি। ৩৫টি একক অ্যালবামও প্রকাশ হয়েছে নন্দিত এই গায়িকার।

কনকচাঁপা কালজয়ী গানের মধ্যে রয়েছে- ‘ভালো আছি ভালো থেকো আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো’, ‘যে প্রেম স্বর্গ থেকে এসে জীবনে অমর হয়ে রয়’, ‘এই বুকে বইছে যমুনা’, ‘নীলাঞ্জনা নামে ডেকো না’, ‘কি জাদু করেছো বলোনা’, ‘একবিন্দু ভালোবাসা দাও’, ‘ছোট্ট একটা জীবন নিয়ে’, ‘অনেক সাধনার পরে আমি পেলাম তোমার মন’, ‘তুমি মোর জীবনের ভাবনা’, ‘প্রেম হইলো রে বাবুই পাখির বাসা’, ‘তোমাকে চাই শুধু তোমাকে চাই’, ‘আমার নাকেরই ফুল বলে রে তুমি যে আমার’, ‘তোমায় দেখলে মনে হয়’, ‘আকাশ ছুঁয়েছে মাটিকে’, ‘অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে’, ‘তুমি আমার এমনই একজন’, ‘বিরহে পোড়াইলা তুমি আমার এ অন্তর’, ‘এমন একটা দিন নাই এমন একটা রাত নাই’, ‘আমি মেলা থেকে তালপাতার এক বাঁশি কিনে এনেছি’ ইত্যাদি।

কনকচাঁপা কর্মময় জীবনের স্বীকৃতিস্বরূপ বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা গায়িকা হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন। এছাড়া বাচসাস চলচ্চিত্র পুরস্কার, দর্শক ফোরাম পুরস্কার, প্রযোজক সমিতি পুরস্কারসহ দেশে-বিদেশে অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি।

শুধু কণ্ঠের যাদুতে মুগ্ধতা ছড়াননি কনকচাঁপা, কালি ও কলমের ছোঁয়াতেও পাঠকপ্রিয় লেখক তিনি। তার লেখা বেশ কিছু বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘স্থবির যাযাবর’, ‘মুখোমুখি যোদ্ধা’, ‘মেঘের ডানায় চড়ে’ ইত্যাদি। ২০২০ সালে তার লেখা জীবনীমূলক বই ‘কাটা ঘুড়ি’ প্রকাশিত হয়েছে।
এছাড়াও তিনি তিনটি জাতীয় চলচ্চিএ পুরুস্কার পেয়েছেন।


একুশেসংবাদ/অনলাইন/মু