AB Bank
  • ঢাকা
  • বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

কঠোর নিরাপত্তায় প্রাথমিকের ১৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা শুরু


Ekushey Sangbad
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৩:১৪ পিএম, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬

কঠোর নিরাপত্তায় প্রাথমিকের ১৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা শুরু

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেল ৩টা থেকে একযোগে দেশের ৬১ জেলায় এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে অংশ নিচ্ছেন প্রায় ১০ লাখ ৮০ হাজার চাকরিপ্রার্থী। প্রার্থীসংখ্যা ও পদের অনুপাতে এটি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নিয়োগ পরীক্ষাগুলোর একটি।

পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্তভাবে সম্পন্ন করতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রের আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে এবং একসঙ্গে পাঁচজনের বেশি মানুষের চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রশ্নফাঁস ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার রোধে তৎপর রয়েছে প্রশাসন। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ, র‌্যাব এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা।

এদিকে কড়া নজরদারির মধ্যেও প্রশ্নফাঁস চক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে। রংপুরসহ কয়েকটি জেলা থেকে কয়েকজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দাবি, আটক ব্যক্তিরা প্রশ্নফাঁস নয়, বরং অবৈধ ডিভাইস ব্যবহারের চেষ্টা করছিলেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের হিসাব সহকারী পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় পরীক্ষা শুরুর মাত্র এক ঘণ্টা আগে তা স্থগিত করা হয়। এরপর থেকেই সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের আশঙ্কা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ও গুজব ছড়িয়ে পড়ে।

চাকরিপ্রার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে দেশের সবচেয়ে বড় পরিসরে নিয়োগ হয়ে থাকে। এবার ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে দ্রুত পরীক্ষার আয়োজন করায় প্রার্থীদের মধ্যে সন্দেহ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তাদের অভিযোগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উচ্চপর্যায়ে শিগগিরই বড় ধরনের রদবদল হতে পারে। এ কারণে তড়িঘড়ি করে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষ করতে চাওয়া হচ্ছে, যা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব ও অনিয়মের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

তবে এসব অভিযোগ নাকচ করেছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের পরিচালক এ কে মোহাম্মদ সামছুল আহসান। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো তথ্যগুলো ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। একটি প্রতারক চক্র পরীক্ষাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। কোচিং ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষীরাও এতে জড়িত থাকতে পারে।

তিনি আরও বলেন, দেশের বহু বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট রয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার সহকারী শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের পদোন্নতি দেওয়া হলে আরও বিপুলসংখ্যক সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য হবে। সেই প্রয়োজন থেকেই দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতেই শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দুই ধাপে মোট ১৪ হাজার ৩৮৫টি পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০টি। গড়ে প্রতিটি পদের জন্য প্রতিযোগিতা করছেন প্রায় ৭৫ জন প্রার্থী।

প্রথম ধাপে রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১০ হাজার ২১৯টি পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৯টি। দ্বিতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ৪ হাজার ১৬৬টি পদের জন্য আবেদন করেন ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৫১ জন।

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

Link copied!