AB Bank
  • ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

কাঁচা মরিচের আগুন, দিশেহারা ক্রেতারা


Ekushey Sangbad
এসআই শফিক
০১:২৮ পিএম, ১৭ জুলাই, ২০২৬

কাঁচা মরিচের আগুন, দিশেহারা ক্রেতারা

টানা ভারী বৃষ্টি ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার প্রভাবে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী দাম দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ডিম, ব্রয়লার ও সোনালি মুরগি, পেঁয়াজ, আদা, রসুন এবং প্রায় সব ধরনের সবজির দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম। তবে সরবরাহ কমে যাওয়াকেই এ মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ি-কাওরানবাজার, হাতিরপুল, মোহাম্মদপুর টাউন হল, নিউ মার্কেট, রামপুরা, বাড্ডা, জোয়ারসাহারা কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত এক সপ্তাহ আগেও ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া অনেক সবজির দাম বেড়ে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় পৌঁছেছে। ঢেঁড়স ও পটোল বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, বেগুন জাতভেদে ৮০ থেকে ১২০ টাকা, করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দল ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কচুরমুখী ও কচুরলতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, দেশি শসা ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ১২০ থেকে ১৩০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লম্বা লাউ আকারভেদে প্রতি পিস ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম। গত এক সপ্তাহ আগেও ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া কাঁচা মরিচ এখন মানভেদে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে ক্রেতারা বলছেন,কাঁচা মরিচের বাজার হঠাৎ আগুন লেগেছে। শুধু মরিচই না, অন্যান্য সবজির দামও দ্বিগুণ হয়ে গেছে। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের টিকে থাকাই দায়।

খুচরা তরকারি বিক্রেতা নাজির হোসেন বলেন, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সবজির জমি তলিয়ে গেছে। খেতেই বেশিরভাগ তরকারি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ কম। পাইকারি বাজারেই আমাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। আরেক ব্যবসায়ী আবু সায়েম বলেন, আমাদের কেনা বেশি, তাই বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি দামে। দাম বাড়লেও আমাদের লাভ তো আগের মতোই আছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে দাম কমার সম্ভাবনা কম।

খিলগাঁও বাজারের পাইকারি মাছ ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে মোকামগুলোতেই মাছ কম উঠছে। আড়তে মাল না থাকলে আমাদের বেশি দামে কিনতে হয়। খুচরা বাজারে তার প্রভাব পড়াটাই স্বাভাবিক। তবে ক্রেতারা মনে করছেন, বৃষ্টি ও বন্যার অজুহাতে দাম বাড়ানো হয়েছে। নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের বাজারে মাছের এই বাড়তি দাম তাদের ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে।

তালতলা বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকুরিজীবী আনিসুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাজারে সবকিছুর দাম এমনিতেই বাড়তি। এখন বৃষ্টির দোহাই দিয়ে মাছের দামও বাড়িয়ে দেওয়া হলো। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বন্যার পানিতে বিভিন্ন জেলার সবজির খেত তলিয়ে যাওয়ায় উৎপাদন কমেছে। পাশাপাশি অনেক মুরগির খামারও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। তবে ক্রেতার চাহিদা অপরিবর্তিত থাকায় দাম বাড়ছে প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের। তবে হাতিরপুল বাজারের এক মুরগি বিক্রেতা জানান, বর্তমানে খামারিদের মুরগির সরবরাহ কমে গেছে। বাজারে মূলত বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের মুরগি আসছে, যার দাম তুলনামূলক বেশি। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় এবং সোনালি মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ আগেও ব্রয়লার ১৭০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে পাওয়া গেলেও বৃষ্টির পর থেকেই দাম বাড়তে শুরু করেছে। মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের এক বিক্রেতা বলেন, কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই। খামারিদের মুরগি বাজারে খুব কম আসছে। তবে দেশি মুরগির দামে তেমন পরিবর্তন হয়নি। এটি এখনও ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকার মধ্যে রয়েছে। মুরগির দাম বাড়ার পাশাপাশি ডিমের বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গত সপ্তাহে যেখানে ডজনপ্রতি ডিম ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেখানে বর্তমানে একই ডজন কিনতে গুনতে হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা।

বিক্রেতাদের দাবি, মুরগির দাম বাড়ায় অনেক ক্রেতা বিকল্প হিসেবে ডিম কিনছেন। ফলে চাহিদা বাড়ায় দামও বেড়েছে। সবজির বাজারে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে বৃষ্টির প্রভাবে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়ে গেছে। যাত্রাবাড়ি বাজারের সবজি বিক্রেতা অহিদুল হক জানান, টানা বৃষ্টির কারণে রাজধানীতে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষেতের ক্ষয়ক্ষতির প্রভাবও বাজারে পড়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে দাম ধীরে ধীরে কমতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তবে আনিসুজ্জামান নামে এক ক্রেতা বলেন, সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফার জন্য অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য দৈনন্দিন বাজার করা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

আদা-রসুনেও কমেনি চাপ: চলতি অর্থবছরের বাজেটে আদা, রসুনসহ বেশ কয়েকটি পণ্যের শুল্ক কমানো হলেও বাজারে তার ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। বর্তমানে আদা ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি, দেশি রসুন প্রায় ১০০ টাকা এবং চায়না রসুন ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজও বেড়ে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে উঠেছে। তবে আলুর দাম এখনও ৩০ টাকার আশপাশে রয়েছে। মসলা বাজারেও তেমন স্বস্তি নেই। লবঙ্গ, দারুচিনি, জিরা, এলাচ, গোলমরিচ ও কিশমিশ আগের উচ্চমূল্যেই বিক্রি হচ্ছে।

মাছ ও চালের বাজারে স্থিতিশীলতা: সবজির বাজারে অস্থিরতা থাকলেও মাছের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২০০ থেকে ২৩০ টাকা এবং রুই-কাতলা ৩৬০ থেকে ৬০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া নদীর চিংড়ি, কাজলি, ট্যাংরাসহ বিভিন্ন মাছ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে চাষের মাছের দাম ৫০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে রয়েছে। চালের বাজারও তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। মিনিকেট চাল ৭০ থেকে ৮৫ টাকা, আটাশ ৬০ থেকে ৬৫ টাকা এবং মোটা চাল ৫০ থেকে ৫২ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি দেশি মসুর ডাল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, আমদানি করা ডাল ১২০ টাকা, ছোলা ৯০ থেকে ১০০ টাকা এবং চিনি ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে চলতি অর্থবছরের বাজেটে বেশ কয়েকটি পণ্যে শুল্ক কমালেও বাজারে এখনও তার সুফল মেলেনি। বরং টানা বৃষ্টি, বন্যা ও সরবরাহ সংকটের কারণে নিত্যপণ্যের দাম আরও বেড়েছে।

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

Link copied!