দেশের অর্থনীতি দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও অনিয়ন্ত্রিত লুটপাটের কারণে সংকটজনক অবস্থায় পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, এর ফলে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোও দুর্বল হয়ে পড়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
অর্থমন্ত্রী বলেন, গত ১৬ বছরে অর্থনীতির আকার বাড়লেও এর ভেতরে নানা কাঠামোগত দুর্বলতা তৈরি হয়েছে। তিনি তুলে ধরেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কমে দাঁড়ায় ৪ দশমিক ২২ শতাংশে। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৭ দশমিক ১৭ শতাংশ থেকে ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশে পৌঁছেছে।
তিনি আরও জানান, শিল্প ও কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধিতেও উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেছে। শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি ১০ দশমিক ৬৬ শতাংশ থেকে কমে ৩ দশমিক ৫১ শতাংশে এবং কৃষি খাতে ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে ৩ দশমিক ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান না থাকায় তরুণদের বড় একটি অংশ কৃষিখাতে যুক্ত হতে বাধ্য হচ্ছে, যা ছদ্মবেকারত্ব বাড়াচ্ছে। বর্তমানে মোট কর্মসংস্থানের ৪১ শতাংশ কৃষিখাতে হলেও জাতীয় আয়ে এর অবদান মাত্র ১১ দশমিক ৬ শতাংশ।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, টাকার মান অবমূল্যায়নের কারণে আমদানি ব্যয় ও জীবনযাত্রার খরচ বেড়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় বিনিয়োগেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
রাজস্ব আহরণে দুর্বলতা, বাজেট ঘাটতি বৃদ্ধি এবং মেগা প্রকল্পে অনিয়মের কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তার মতে, অপরিকল্পিত প্রকল্প বাস্তবায়ন ও অর্থ পাচারের কারণে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ অপচয় হয়েছে।
ঋণ ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সুদ পরিশোধের পরিমাণ কয়েকগুণ বেড়েছে, যা অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়া এবং রপ্তানি-আমদানি প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হওয়াও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসী আয় বৃদ্ধি পাওয়াকে ইতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী জানান, অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকার প্রয়োজনীয় সংস্কার উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
একুশে সংবাদ/যাবিদ



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

