রাজশাহীর পুঠিয়ায় সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে মানিক চাঁদ (৩৩) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার বেজ পাতিয়াটা এলাকার আব্দুস ছালামের ছেলে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুঠিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পুঠিয়া উপজেলার ছান্দাবাড়ী এলাকার সালাউদ্দিনের ছেলে শওকত হোসাইনের সঙ্গে অভিযুক্ত মানিক চাঁদের আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে।
প্রায় এক বছর আগে মানিক চাঁদ একটি প্রাইভেটকারে করে শওকতের বাড়িতে গিয়ে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র প্রদর্শন করেন। একই সঙ্গে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে দাবি করে সরকারি চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন।
এজাহারে বলা হয়, ওই আশ্বাসে শওকত হোসাইন ও তার দুই বন্ধু রাজি হলে বিভিন্ন সময়ে অভিযুক্তের স্ত্রী খাদিজা ইয়াসমিনের নামে ইসলামী ব্যাংকের একটি হিসাবে মোট ১৬ লাখ টাকা জমা দেন।
পরে কয়েক দফা তাদের ঢাকায় নিয়ে বিভিন্ন কাগজপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হলেও চাকরির কোনো অগ্রগতি হয়নি। দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পর টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্ত নানা ধরনের সময়ক্ষেপণ করেন এবং একপর্যায়ে হুমকি-ধমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, গত ২৬ জুলাই পারিবারিকভাবে বিষয়টির মীমাংসার কথা বলে মানিক চাঁদ তাদের বাড়িতে যান। এ সময় বিভিন্ন এলাকার পাওনাদাররা সেখানে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে পুঠিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে থানায় নিয়ে আসে। পরে ভুক্তভোগীরা থানায় উপস্থিত হয়ে মামলা দায়ের করেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মানিক চাঁদ রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
তারা আরও দাবি করেন, অতীতেও তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করেছে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তার নাম উঠে এসেছে। ২০১৬ ও ২০২২ সালে প্রচারিত অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান ‘তালাশ’-এও তাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল বলে অভিযোগকারীদের দাবি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মানিক চাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুঠিয়া থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে আসে। পরে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি জানতে পারি। ভুক্তভোগীরা একটি মামলা করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

