রাজশাহীর তানোর উপজেলার কামারগাঁ খাদ্যগুদামের ওসিএলএসডি (অফিসার ইনচার্জ, লোকাল সাপ্লাই ডিপো) আতিকুর রহমানকে নানা অনিয়ম, সরকারি বরাদ্দের ধান সংগ্রহে অনিয়ম, বরাদ্দের ধান অন্যত্র বিক্রি এবং কৃষকদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা পারভীন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় কৃষকেরা খাদ্যগুদামের সামনে মিষ্টি বিতরণ করেন এবং তাঁর শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। স্থানীয়দের দাবি, গুরুতর অভিযোগের পরও তাঁকে লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাই তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি কঠোর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে কামারগাঁ খাদ্যগুদামে সরকারি সংগ্রহ কর্মসূচির আওতায় ৫৫০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের বরাদ্দ দেওয়া হয়। কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি প্রতি কেজি ৩৬ টাকা দরে ধান কেনার নির্দেশনা ছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, গুদাম কর্মকর্তা আতিকুর রহমান প্রায় ৩৫০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করে বাকি প্রায় ২০০ মেট্রিক টন ধান নানা অজুহাতে অন্যত্র বিক্রি করে দেন। একাধিক সূত্রের দাবি, তিনি গোপনে ২ থেকে আড়াই লাখ টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগ-সমর্থক এক ব্যবসায়ীর কাছে ওই বরাদ্দ বিক্রি করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গুদামে প্রকৃত কৃষকেরা এক ছটাক ধানও দিতে পারেননি। গুদাম কর্মকর্তা চারজন বড় ব্যবসায়ীর মাধ্যমে বাইরের নিম্নমানের ধান সংগ্রহ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রতি টনে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা কমিশন নিয়ে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ করেন। ফলে প্রকৃত প্রান্তিক কৃষকেরা সরকারি সংগ্রহ কর্মসূচির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
এ ঘটনায় কৃষকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার তদন্ত হলেও তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, গুদাম কর্মকর্তার সহায়তায় একটি সিন্ডিকেট বাইরের এলাকা থেকে কম দামে ধান কিনে বেশি দামে সরকারি গুদামে সরবরাহ করেছে। এছাড়া কৃষকদের কার্ড সংগ্রহ করে দুর্নীতির মাধ্যমে ধান সংগ্রহ এবং লাখ লাখ টাকার কমিশন বাণিজ্যেরও অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, তালিকা ধরে তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
অভিযোগ রয়েছে, সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর আতিকুর রহমান গত সোমবার গোপনে তাঁর পরিবারের সদস্যদের অন্যত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। তিনি এখনও এলাকায় অবস্থান করছেন এবং গোপনে এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করছেন বলে স্থানীয়দের ধারণা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গুদাম কর্মকর্তা আতিকুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা পারভীন অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বরাদ্দের ধান বিক্রিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে আতিকুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

