AB Bank
  • ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

পরিকল্পিত হত্যা, ২০ বছর পর সৎছেলেসহ তিনজনের যাবজ্জীবন


Ekushey Sangbad
আব্দুল্লাহ সউদ, কালাই, জয়পুরহাট
০৫:১৭ পিএম, ২৮ জুলাই, ২০২৬

পরিকল্পিত হত্যা, ২০ বছর পর সৎছেলেসহ তিনজনের যাবজ্জীবন

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় মাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ পুকুরে ফেলে ‘পানিতে ডুবে মৃত্যু’ বলে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চাঞ্চল্যকর মামলায় প্রায় দুই দশক পর রায় দিয়েছেন আদালত। বহুল আলোচিত এ মামলায় নিহত মরিয়ম বেওয়ার সৎছেলেসহ তিনজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে জয়পুরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (দ্বিতীয় আদালত) মো. তসরুজ্জামান দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) শাহানুর রহমান শাহীন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কালাই উপজেলার পুনট পাঁচপাইয়া গ্রামের মৃত নূরুল ইসলামের ছেলে সুজাউল ইসলাম, মৃত কছিমুদ্দিন মোল্লার ছেলে ছালামত মোল্লা এবং আব্দুর রহমান সরকারের ছেলে মোফাজ্জল হোসেন সরকার।

আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, স্বামীর মৃত্যুর পর মরিয়ম বেওয়া সন্তানদের নিয়ে স্বামীর বাড়িতেই বসবাস করছিলেন। পারিবারিক বিরোধের জেরে এবং পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০০৫ সালের ৩১ জুলাই রাতে তাঁর সৎছেলে সুজাউল ইসলাম সহযোগীদের নিয়ে অসুস্থতার কথা বলে তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে পাশের একটি মাঠে নিয়ে তাঁকে মারধর করে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

হত্যাকাণ্ডকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে পরে মরদেহ একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর এলাকায় প্রচার করা হয়, মরিয়ম বেওয়া পানিতে ডুবে মারা গেছেন। তবে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ এবং ঘটনাপ্রবাহের অসংগতির কারণে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরদিন পুলিশ পুকুর থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনার এক সপ্তাহ পর, ২০০৫ সালের ৭ আগস্ট নিহতের বোন বাদী হয়ে কালাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় একাধিক সাক্ষীর সাক্ষ্য, আলামত ও অন্যান্য প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শাহানুর রহমান শাহীন বলেন, আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার সার্বিক উপাদান বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হয়েছেন যে এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় পর হলেও এ রায়ের মাধ্যমে নিহতের পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আদালতের নির্দেশে পুলিশ তাঁদের আদালত চত্বর থেকেই কারাগারে নিয়ে যায়।

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

Link copied!